স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রাহাত হত্যা মামলায় বিচারের প্রথম দিনেই সংবাদদাতা বাদী শিশু রাহাতের বাবা শহীদুল ইসলাম খোকন ও মা রিনা বেগমসহ ৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণ করেছে আদালত। ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা ওই সাক্ষ্যগ্রহণ করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ সায়েদুর রহমান খান। ওইসময় রাহাতের বাবা ও মা ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সেইসাথে তারা ঘটনায় জড়িত ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেন। একইসাথে আদালত আসামীদের জামিনের আবেদন নাকচ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে হাজতী আসামী লতিফ (২১), রবিন মিয়া (২০), আসলাম বাবু (২২) ও ইমরান হোসেন (২১) কে জেলা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ওইসময় তারা ছিল একেবারেই ভাবলেশহীন। এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির তরফ থেকে আসামীপক্ষে ওই মামলায় কোন সহায়তা না করার ঘোষণা থাকা সত্বেও সমিতির একাধিক সিনিয়র সদস্য তা উপেক্ষা করায় বাদীপক্ষসহ সচেতন মহলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু প্রথম দিনে শিশু রাহাতের বাবা ও মাসহ ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই মামলায় সংবাদদাতা বাদী, চিকিৎসক, আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী রয়েছেন ২৭জন। প্রথম দফায় ৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি ৫জন করে সাক্ষীর নামে সমন দেওয়া হয়। প্রথম দিনে সাক্ষ্য-জেরা হওয়ায় ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারিও টানা সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে। মামলাটি আসামীপক্ষে লড়ছেন সিনিয়র আইনজীবী নারায়ণ চন্দ্র হোড়, আব্দুর রউফ মিয়া, তাপস চন্দ্র দাস ও আতাহার আলী।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ আগস্ট দুপুরে শেরপুর শহরের বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে (৮) তার আপন খালু আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের ৬ দিন পর ৮ আগস্ট দুপুরে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড় থেকে অপহৃত শিশু রাহাতের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত রাহাতের খালু লতিফসহ অপর তিন আসামী রবিন মিয়া, আসলাম বাবু ও ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/৩০ ধারা এবং তৎসহ দঃবিঃ ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় ২৯ নবেম্বর লতিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠালে ৩ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।




