মেহের আমজাদ ,মেহেরপুর : মেহেরপুর জেলার গাংনীতে প্রধান শিক্ষকের সাথে পরকিয়া প্রেমে পড়ে অবৈধ দৈহিক মিলনে প্রবাসীর এক স্ত্রী গর্ভবতি হয়ে পড়েছে। গোপনে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে এসে লম্পট শিক্ষক সাইদুল হাসান পলাশ গ্যাঁড়াকলে পড়ে যায়। পরে গাংনী পৌরসভায় আদালতে সালিস-বৈঠকের মাধমে দু’জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
প্রেমিক ২ সন্তানের জনক সাইদুল হাসান পলাশ গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও হাড়াভাঙ্গা গ্রামের হাজী নিয়ামত আলী মাষ্টারের ছেলে। প্রেমিকা সুফিয়া খাতুন ওরফে সুমী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা হাজীপাড়ার আব্দুল জলিলের মেয়ে এবং একই গ্রামের শেখপাড়ার ফজলুর রহমানের স্ত্রী।
গাংনী পৌর মেয়র আহম্মদ আলী জানান, সুফিয়া খাতুন সুমীর সাথে ১৪ বছর পূর্বে বিয়ে হয় হাড়াভাঙ্গা গ্রামের ফজলুর রহমানের সাথে। দু’জনের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সুমীর স্বামী ফজলুর রহমান সৌদিতে রয়েছেন। স্বামীসহ সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিবেশী সাইদুল হাসান পলাশের প্রেমে পড়ে সুমী। তারা প্রায় এক বছর ধরে গোপনে অবৈধ ভাবে রাত-যাপন করে আসছিল। অসাবধানবশত সুমী গর্ভবতি হয়ে পড়ে। প্রেমিক পলাশকে গর্ভবতি হওয়ার বিষয়টি জানায় সুমী। পলাশ সুমীকে গোপনে গর্ভপাত ঘটানোর ব্যাপারে তাগিদ দিলেও এ বিষয়ে সুমী কোন কর্ণপাত করেনি।
এদিকে সুমীর গর্ভবতির ঘটনাটি প্রথমে পরিবারের লোকজন জানতে পারে। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশীর কানে । লোক-লজ্জার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে গাংনী উপজেলা শহরের বনবিভাগ পাড়ার একটি বাড়ি আশ্রয় নেয় সুমী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পলাশ গোপনে সুমীর সাথে দেখা করতে বনবিভাগ পাড়ার ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়। টের পেয়ে এলাকাবাসি তাদের দু’জনকে আটক করে গাংনী পৌরসভায় হস্তান্তর করেন। পরে পৌর আদালতে দ্রত বিচার কার্য শুরু হয়। বিচারে পলাশ ও সুমীর তাদের দোষ স্বীকার করে।
সুমী জানায়, আমার স্বামী যেহেতু বিষয়টি জেনে গেছে। তাই সে আমাকে আর তার সংসারে নেবে না। সবশেষে পলাশ ও সুমীর বাবার পক্ষের লোকজনের সম্মতিক্রমে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে দুজনের বিয়ে সম্পন্ন হয়।




