শাহনেওয়াজ খান সুমন, ঝিনাইদহ : চুরির অপবাদ দিয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক নারীর মাথার চুল কেটে দিয়েছে প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি। বাঁশের সাথে বেঁধে চালানো হয়েছে নির্যাতন। নাটিমা গ্রামের হালিমা খাতুন (৩২) নামের ওই নারী বর্তমানে মহেশপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছেন। তবে ঘটনার মূল নায়ক শফিক উদ্দিনসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন। নির্যাতিত নারী বাদি হয়ে মহেশপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানিয়েছেন।
নাটিমা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে হঠাৎ আব্দুল মজিদের বাড়িতে চিৎকার শুনে তারা ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন মজিদের স্ত্রী হালিমা খাতুনকে তার ৯ বছর বয়সী ছেলের সামনে বাঁশের সাথে বেঁধে মারপিট করা হচ্ছে। হালিমাদের প্রতিবেশী প্রভাবশালী শফিক উদ্দিনের নেতৃত্বে চুরির অপবাদে চলছে এই নির্যাতন। এক পর্যায়ে চুরির কথা স্বীকার না করায় মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়।
হালিমা খাতুন জানান, গ্রামের সলেমানের ছেলে শফিক উদ্দিন ও সিরাজের ছেলে মিন্টু প্রায়ই তাকে খারাপ প্রস্তাব দিত। এতে সে রাজি না হওয়ায় ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকলকে ঘটনা খুলে বলেন এবং থানায় মামলা দিয়েছেন। নির্যাতনকারীরা তাকে মারপিট করায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গ্রামবাসী আমজাদ, জহুর আলী, আশিক, রোকনুজ্জামানসহ সবাই এই ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনার মূল নায়ক শফিক উদ্দিন বলছে, হালিমা চোর তাই এলাকাবাসী তাকে পিটিয়েছে। তবে ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। তারা একজনকে আটক করেছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।




