ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ শিক্ষক সমাজ তথা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার অভিযোগে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের পীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মাহমুদা সিদ্দিকা পান্নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭শ’ ৭২জন শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে দাখিল করা হয়েছে। ৪৩পৃষ্ঠার এ আবেদন বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রেরন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য, মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার, উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা সিলেট, ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ ছাতক থানাকে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৩ এপ্রিল পীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারফত আলী ও জাউয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিছবাউজ্জামান শিলু’র বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আনেন সহকারি শিক্ষিকা মাহমুদা সিদ্দিকা পান্না। তার দায়েরি ইভটিজিংয়ের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনুর আক্তার পান্না প্রধান শিক্ষক মারফত আলীকে ৪মাসের কারাদন্ড ও ১০হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। গত ২০এপ্রিল এ দু’শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানীমুলক অভিযোগ এনে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষিকা পান্না। পরবর্তীতে ৪মে একই অভিযোগে সুনামগঞ্জ জ্যুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরো একটি উদ্দেশ্যমুলক পিটিশন মোকদ্দমা দায়ের করা হলে, মাননীয় আদালতের নির্দেশে তা ছাতক থানায় ১২মে ১৪/১১০নং মামলা হিসেবে এফআইআরভূক্ত হয়। শিক্ষিকা পান্না ৮এপ্রিল হতে ৫মে পর্যন্ত চিকিৎসাকালীন ছুটি ভোগ করার পর অননুমতিভাবে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হয়রানীমুলক মামলা করে যাচ্ছেন। যে কারনে তার এহেনও কার্যকলাপে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মান ভুলন্ঠিত হওয়ায় সকল শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্রমুলক কর্মকান্ডে তার চাচাতো ভাই পরিচয়দানকারী দিরাই উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের মাহমুদুর রসুলের পুত্র আল-হেলাল প্রত্যক্ষ ইন্দন যোগাচ্ছে। বিগত ২৯এপ্রিল শিক্ষিকা পান্নার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করার পরও সহকারি এ শিক্ষিকা আদালতে মামলা রুজু করেন। শিক্ষকবৃন্দের সঞ্চিত ক্ষোভ প্রশমনে ও শিক্ষক সমাজের ভাবমুর্তি রক্ষার্থে উক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোরদাবী জানান তারা। বুধবার সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিলনায়তনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোনায়েম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত শেষে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।




