মেহের আমজাদ, মেহেরপুরঃ মেহেরপুরে জলাশয় সংরক্ষণ বিধি লঙ্ঘন করে একের পর এক পুকুর ভরাট করছে জলাশয় মালিক এবং স্থানীয় ভবন বিলাসী কিছু মানুষ। যেখানে প্রকৃতি হারাচ্ছে তার পরিবেশ পড়ছে বিপর্যয়ের মুখে। শিশু কিশোরদের সাঁতার শেখার ইচ্ছাগুলো হচ্ছে না পুরন। এছাড়াও জলাবদ্ধতা ও জনদূর্ভোগ বাড়ছে। অন্যদিকে শহরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস পাচ্ছে না নিকটবর্তী স্থানে পুকুর বা ডোবা। যার জন্য শহরের জানমালের ব্যপক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে শুধুমাত্র মেহেরপুর পৌরসভাতেই ২০ থেকে ২৫ বছরে প্রায় দুই ডজন পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন, মার্কেট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। ৯নং ওয়ার্ড এর বৃদ্ধ শহিদুল (৬০) এই প্রতিবেদককে বলেন একটা সময় ছিল যখন চৈত্র ও বৈশাখ মাসে সকাল বিকাল পুকুরে গোছল করে মানুষ সতেজ ও সুন্দর থাকতো। এখন সাপ্লাই পানি নির্ভর হতে গিয়ে বিদ্যুতের অত্যাচারে মাঝে মধ্যেই গোসল না করে দিন পার করতে হয়। এর মধ্যে বিট্রিশ আমেরিকা ট্যোবাকের পুর্ব দিকে মৃত এ্যাডঃ সামাদ মিয়ার পুকুর, তাহের ক্লিনিকের পিছনের পুকুর, মহিলা কলেজের স্থানের পুকুর, পশুহাটের পুকুর, বড়বাজারের কাঁচাবাজারের পুকুর, মল্লিক পাড়ার গালিব হাউজের পিছনের পুকুর, ১নং ওয়ার্ডের বেটুল পালের পুকুর, ৯নং ওয়ার্ডের মৃত কাউন্সিলর সালেহুন তারেকের বাড়ীর পাশের পুকুর, সালাম ক্লিনিকের পিছনের পুকুর, হোটেল বাজার জামে মসজিদের উত্তর দিকের পুকুর বা ডোবা, নীলমনি হল পাড়ার সাত্তার মিয়ার পুকুর, সরকারী হাসপাতালের উত্তর পশ্চিম কোণার পুকুর, ১নং ওয়ার্ডের মৃত ভিকু মিয়ার পুকুর, মহিদের পুকুর, ঢাকা টৌবাকোর ভিতরে পুকুর, প্রফেসর আঃ মান্নানের বাগানের পুকুর, এছাড়া মেহেরপুরের পুরাতন গোরস্থানের পশ্চিমে ইসরাফিলের পুকুরটি এরই মধ্যে অনেকখানি ভরাট হয়ে গেছে। এভাবে পুকুর ভরাট চলতে থাকলে হয়তো সামনে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই মেহেরপুর পৌরসভাতে পুকুরের অস্তিত্ব থাকবে কিনা সেটা বলা যচ্ছেনা । আর যদি এভাবে পুকুরের অস্তিত্ব হারাতে থাকে তাহলে এক সময় দেখা যাবে আমাদের সন্তানেরা পুকুর কি করে কি জিনিস সেটা জিজ্ঞাসা করে বসবে।




