ads

সোমবার , ৫ মে ২০১৪ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

আগৈলঝাড়ায় সাপে কাটা যুবককে বাঁচাতে আধুনিক যুগেও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে চলছে ওঝাদের বিষ নামানোর চেষ্টা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ৫, ২০১৪ ৬:০৩ অপরাহ্ণ

Photo-Agailjhara-2অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সাপে কাটা যুবককে বাঁচানোর জন্য আধুনিক যুগেও চলছে ৬দিন ধরে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ওঝাদের বিষ নামানোর চেষ্টা। কেউ কেউ এ পদ্ধতিকে কুসংস্কার ও প্রতারণা বলে দাবি করছেন। সাপে কাটা রোগীকে বিষমুক্ত করার ইনজেকশন আগৈলঝাড়া হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছেনা।

Shamol Bangla Ads

জানা গেছে, উপজেলার পতিহার গ্রামের আ. ছত্তার সরদারের ছেলে আলমগীর সরদার (২৭) কে ৩০ এপ্রিল রাতে সাপে দংশন করে। তাকে বাঁচানোর জন্য সাপুড়ে ওঝা আলী আকবর ফকির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাপে দংশন করা যুবক আলমগীরের মাথার সাথে সুতা বেঁধে অন্যপ্রান্তে আট ফুট দূরে উঠানে কলাগাছ পুতে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সাপুরে ওঝা আলী আকবর তার ৭ সঙ্গীকে নিয়ে নেচে নেচে মন্ত্র পাঠ করছেন। এ প্রক্রিয়া চলছে গত ৩ দিন ধরে। ওঝা আলী আকবর নিজেকে বিখ্যাত সাপুড়ে আব্দুল আলী গারলীর শিষ্য বলে দাবি করে বলেন, ৮ বছর বয়স থেকে তার সাথে ছিলাম। উঠানে পুঁতে রাখা কলাগাছের পাঁচটি ডগা ছিল। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মন্ত্র পাঠের কারণে ইতোমধ্যেই তিনটি ডগা ভেঙে পরেছে। বাকী দুটি ডগা ভেঙ্গে পরলে রোগীর শরীর বিষমুক্ত হবে। এতেও যদি রোগী সুস্থ না হয় তাহলে পুনরায় কলাগাছ পুঁতে এ প্রক্রিয়া প্রয়োজনে আরও ৭ দিন ধরে চলবে। আলমগীরকে ৬ দিন পূর্বে বুধবার রাতে সাপে দংশন করলে প্রথমে পতিহার গ্রামের নারায়ণ সিংহের স্ত্রী নীলা বিশ্বাস ঝাঁড়-ফুঁক দিয়ে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। পরের দিন আলমগীর আরও অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে পরিবারের লোকজন গৌরনদী উপজেলার গয়নাঘাটার ওঝা মকবুলের কাছে নেয়া হলে তাকে চারটি বরি খাওয়ানো হয়। ওইদিন রাতে আলমগীর আবারও অসুস্থ হয়ে পরলে পুনরায় মাহিলাড়ার ওঝা শাহজাহান খাঁ’কে আনা হয়। তিনিও রোগীকে ঝাঁড়-ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। এতেও সুস্থ না হওয়ায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে ওঝা রফিকুল ইসলামকে আনা হলে তিনিও চিকিৎসা করেন। শেষ পর্যন্ত আলমগীর সুস্থ না হওয়ায় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুরের আলী আকবর ওঝা ও তার ৭ সঙ্গীকে এনে বাড়ির উঠানে রশি দিয়ে বেরিকেড দিয়ে উপরে সামিয়ানা টাঙিয়ে রোববার থেকে বিষ নামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সাপুড়ে ওঝা আলী আকবর ও তার দলকে ২৮ হাজার টাকা, ৭ খানা লুঙ্গী, গামছা, গেঞ্জি দেওয়ার চুক্তিকে আনা হয়েছে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পরলে স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার লোকজন বিষ নামানোর এ দৃশ্য দেখার জন্য ওই বাড়িতে ভিড় করছে। তবে ওই গ্রামের কলেজ ছাত্র শহীদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি ওঝাদের এ বিষ নামানোর প্রক্রিয়াকে কুসংস্কার ও প্রতারণা বলে দাবি করছেন। ওঝা দিয়ে চিকিৎসা চললেও তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি বলে অনেে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন লাল্টু বলেন, আমাদের এ অঞ্চল বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলের মানুষ এখনো ওঝার মাধ্যমে বিষ নামানোর প্রক্রিয়াকে বিশ্বাস করে। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, বর্তমান যুগে ওঝার মাধ্যমে সাপে কাটা রোগীর বিষ নামানোর প্রক্রিয়াকে আমরা সমর্থন করিনা। সাপে কাটা রোগীর বিষ মুক্ত করার জন্য ইনজেকশন থাকলেও বর্তমানে আগৈলঝাড়াসহ বরিশাল জেলায়ও পাওয়া যাচ্ছেনা।

আগৈলঝাড়ার নিখোঁজের তিনদিন পর লাশ উদ্ধার

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিখোঁজের তিনদিন পর এক ব্যক্তির ভাসমান অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশ সনাক্ত করেছে বোন আদুরী ওঝা। গত ৩ মে দুপুর থেকে কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রামের মৃত প্রভাত বিশ্বাসের ছেলে মনোরঞ্জন বিশ্বাস নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে মনোরঞ্জনকে পাওয়া যায়নি। পরে পয়সারহাট-আগৈলঝাড়া খালে ভাসমান অবস্থায় রোববার বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পরলে কোদালধোয়া গ্রামের বোন আদুরী ওঝা থানায় এসে মনোরঞ্জনের লাশ সনাক্ত করে। লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মৃত মনোরঞ্জনের বোন জানায়, তার মৃগী রোগ ছিল। গোসল করতে গিয়ে সে ৩ দিন পূর্বে নিখোঁজ হয়।

Need Ads
error: কপি হবে না!