স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রতিহিংসা ও জেদের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় এবার কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগের ৫ নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। ১৯ মে শনিবার বিকেলে শহরের চকবাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী পরিষদের এক সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিস্কৃত নেতারা হচ্ছেন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের দলীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ। একইসাথে নির্বাহী পরিষদের ১নং সদস্য, শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনের সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই সভায়। অন্যদিকে ওই বহিস্কার ও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। সেইসাথে তারা আরও অভিযোগ করেছেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নির্বাহী পরিষদের এখতিয়ার বহির্ভূত।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহার এবং প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁনসহ ৫ নেতাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপির পরিচালনায় নির্বাহী পরিষদের ওই সভায় ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিস্কারসহ তাদের কমিটির কার্যক্রম বাতিল এবং নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোঃ বোরহান উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণের কথা বলা হলেও কেন বা কোন প্রেক্ষাপটে প্রত্যাহার ও বহিস্কারের ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সে কথা বলা হয়নি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটি গঠনের পর থেকেই ওই নেতারা কমিটির সভা বয়কট করে আসছিলেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতোপূর্বে শোকজ করা হলেও তারা কোন জবাব না দেওয়ায় দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেকই তাদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী পরিষদের ওই সিদ্ধান্তকে তথাকথিত অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ বলে উল্লেখ করে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের দলীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুগতদের নিয়ে। কমিটি গঠনে তার যেমন মতামত নেওয়া হয়নি, ঠিক তেমনি দলের অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের কমিটিতে নেওয়া হয়নি। যে কারণে ওই কমিটি পুনর্গঠনের জন্য দলের ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হয়েছে। সেই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমরা সভায় অংশগ্রহণ করিনি বলে তাতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কিছু হয়নি। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সাক্ষরিত এক পত্রে দেশের সব জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে এই মর্মে অবহিত করা হয়েছে যে, কোন কমিটি বা কোন নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও সেই কমিটি বাতিল বা সেই নেতাকে কোনক্রমেই বহিস্কার করা যাবে না, কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ব্যতীত। কাজেই নির্বাহী পরিষদের ওই সিদ্ধান্তই শৃঙ্খলাপরিপন্থী ও বিভ্রান্তিকর।
একই কথা জানান নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ। তাদের সাথে একমত পোষণ করে অপর নেতা শামছুন্নাহার কামাল বলেন, আমাকে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে সরাতেই কোন প্রকার সম্মতি না নিয়েই জেলা আওয়ামী লীগে রাখা হয়েছে। কাজেই আমিও ওই কমিটির সাথে নই।




