মো. মতিয়ার রহমান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত মোগল আমলের তৈরী ঐতিহাসিক জিগাগড় দূগর্টি বিলুপ্তির পথে যেতে বসেছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিঃ মিঃ দক্ষিনে দাউদপুর ইউনিয়নের জিগাগড় গ্রামের পূর্ব পার্শ্বে ওই জিগাগড় দূর্গের অবস্থান। স্থানীয়রা এটাকে গড় হিসাবে জানেন। এই গড়ের উপর থেকে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, মাটি কেটে ফসলি জমিতে রুপান্তরিত করা হয়েছে । দখলকারীরা সেখানে বিভিন্ন জাতের গাছও রোপন করেছে। চাষ করা হয়েছে ভ’ট্টা, বোরো সহ নানা ফসলের। ফলে দূর্গের যে চিত্র ছিল তার পরিবর্তন ঘটেছে। নবাবগঞ্জের ইতিহাস লেখা একটি বই থেকে জানা যায় দূর্গটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩০০০ ফুট ও প্রস্থে প্রায় ১৫০০ ফুট। দূর্গের জমির পরিমান প্রায় ৮০ বিঘা। এখন ওই জমিগুলি বিভিন্ন জনের নামে পত্তন হওয়ার পর হাত বদল হয়েছে অনেক। সমতল ভ’মি থেকে দূর্গের উচ্চতা ৪ থেকে ৫ ফুট। এর চার পাশে প্রায় ৩০ ফুট প্রশস্ত পরিখা বিদ্যমান। ওই পরিখাতে ১৫/১৬ বছর পূর্বেও সারা বছর ধরেই নাকি পানি ভর্তি থাকত। এখন তা ভরাট হয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। পরিখার চারপাশ দিয়েই দূর্গের প্রাচীরের অংশ বের হয়ে থাকা অনেকেই দেখেছে। জনশ্রæতি রয়েছে প্রাচীরটি এতটায় চওড়া ছিল যার উপর দিয়ে নাকি ৮টি ঘোড়া এক সাথে দৌড়াতে পারতো। গড়ের দক্ষিন পার্শ্বে একটি মন্দির ছিল বলেও অনেকের ধারনা। গড়ের ভিতরে ও এর আশে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অজ¯্র ইটের টুকরা। স্থানীয়দের মতে ইটগুলি দু ধরনের। এক ধরনের ইট ছোট এবং পাতলা। আবার আরেক ধরনের ইটের পুরুত্ব যেমন আকারেও তেমন বড়। এসব থেকে ধারনা করা হয় প্রথমে সেখানে ছোট আকারে কিছু একটা করা হয়েছিল। এরপর সেটার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার কারনে পরে এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছিল। স্থানীয়রা বলে এটি গড় রাজার দূর্গ ছিল। গড় রাজা তর্পণঘাটে তর্পণ উপলক্ষ্যে আগমনকালে এখানে এসে তার সময়(লগ্ন) শেষ হয়ে যায়। লগ্ন ধরতে না পারায় এক বছর অপেক্ষা করতে হবে তাই স্ব দলবলে সেখানে থাকার জন্য এটি তৈরী করা হয়েছিল। গড়ের জমি ভোগ করেন এমন একজন হলেন জিগাগড় গ্রামের কুদ্দুস আলীর ছেলে আঃ কাদের। তিনি গড়ের পার্শ্বে মুরগির খামার সহ মাছ চাষ করেন। তিনি জানালেন গড়ের জমি গুলি পত্তনি নিয়ে কেউ ভোগ দখল করছেন আবার কেউ বিক্রি করেছেন।গড় এলাকায় তেমন কিছু পাওয়া না গেলেও কড়ি পাওয়া যেত। গড়ের পূর্ব পার্শ্বে জিগাগড় বৈদাহার গ্রামের হাজী হাজের উদ্দীন জানালেন তিনি ৫ হাজার ৫০০ টাকায় ১২ বিঘা জমি কিনেছেন। যার মধ্যে এখন একটি কওমী মাদ্রাসা ও এতিম খানা গড়ে তোলা হয়েছে । ওই এলাকায় পরিখা সমান করার জন্য মাটি কাটছিলেন মৃত মঙ্গল সরেনের ছেলে বালা সরেন। তিনি জানালেন জায়গাটি অন্য এক জনের। জায়গার মালিক ইটভাটা মালিকদের সেখান থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য দিয়েছিলেন। কিন্তু মাটির সাথে ইটের টুকরা বেশী থাকায় ভাটা মালিকেরা আর মাটি নিয়ে যান না। ওই এলাকা জুড়ে ভরে আছে ইটের টুকরা দিয়ে। ইটের টুকরার কারনে নাকি জমি চাষ করাও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতœতাত্বিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্বাধীন সেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ঐটি একটি দূর্গ এবং মোগল আমলের তৈরী। নবাবগঞ্জের ইতিহাস নিয়ে লেখা বইয়ের লেখক আঃ আজিজ সহ স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল জানান আর যাই হোক ইতিহাস আর ঐতিহ্য ধরে রাখতে দূর্গটি সংরক্ষন করা দরকার। এরজন্য সরকারী ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। তারা বলেন ওই যুগের কোন জমিদারের সময় দূর্গটি নির্মান করা হয়েছিল তার সঠিকতা জানতে খনন করাও যেতে পারে।
নবাবগঞ্জে স্বপ্নে পাওয়া মা মারিয়ামকে দেখতে জনতার ভিড়

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এক আদিবাসী গৃহ বধূর স্বপ্নে পাওয়া যীশু খৃষ্টের মা মা মারয়িাম কে দেখতে জনতার ভিড় জমে উঠেছে। জানা যায় উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের ঘাসুড়িয়া(ঘাউড়া) গ্রামের শ্রী বুদুন তিগ্যার স্ত্রী সুকমনি স্বপ্নে মা মারিয়ামকে প্রায় ২ মাস পূর্বে তার ঘরের ভিতরে পান। সুকমনি জানান স্বপ্নে তাকে মা মারিয়াম তার ঘরে আসছে বলে তাকে পবিত্র অবস্থায় থাকতে বলে। এরপর ভোরে ঘরের মেঝেতে মা মারিয়ামের প্রতিকৃতিটি পান। পাওয়ার পর প্রায় ১ মাস বিষয়টি কাউকে না বলে গোপন রাখেন। ১ মাস পর বিষয়টি প্রতিবেশীরা সহ সকলের মাঝে জানাজানি হয়। জানাজানি হওয়ার পর মা মারিয়ামের প্রতিকৃতি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে থাকে। সুকমনি তার ঘরের বারান্দায় একটি বেদীর উপরে কাঁচের ভিতরে তাকে রেখেছেন এবং দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়ে মা মারিয়ামকে দেখছেন এবং মনের বাসনা পূরনে, রোগ থেকে মুক্তি লাভের জন্য আশির্বাদ প্রার্থনা করছেন। মা মারিয়ামকে দেখতে ঠিক ক্রুশ এর মত। উচ্চতা প্রায় দেড় ইঞ্চির মত। গত রবিবার ঘটনা স্থলে গিয়ে দর্শনার্থী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের রামভদ্রপুর গ্রামের গোলাপী হেমরম ও সোহাগী হেমরমের সাথে দেখা হয়। তারা জানান খবর পেয়ে মা মারিয়ামের প্রতিকৃতি দেখতে এবং মসবাসনা পূর্ণের জন্য প্রার্থনা করে আশির্বাদ নিতে এসেছেন। বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।




