ads

মঙ্গলবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

তানোরে ৯৬৮ খাস পুকুর ও জলাশয় দলীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে : কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৪ ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

Rajshahi_District_Map_Bangladesh-61ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) : রাজশাহীর তানোরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৯শ ৬৮টি খাস পুকুর ও জলাশয়গুলো প্রভাবশালী দলীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বছরে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অপরদিকে, এসব সরকারি খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো বেশির ভাগ শাসক দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের দখলে থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি এসব খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করে প্রকৃতি মৎস্যজীবিসহ জনসাধরণের মাঝে লীজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত করা হোক।

Shamol Bangla Ads

উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্যমতে জানা যায়, তানোর উপজেলায় প্রায় ৯৬৮টি খাস পুকুর ও জলাশয় রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫০ কিলোমিটার দৈঘ্যের ১৫টি খাড়ি রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এসব খাড়ি ও পুকুর জলাশয়গুলো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। একারণে সরকারের এতসব খাড়ি ও পুকুর-জলাশয় থাকলেও এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কোন উপকারে আসছে না। এছাড়া এসব সরকারি পুকুর জলাশয় থেকে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এনিয়ে পাঁচন্দর ইউপি’র দুবইল সাহাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, যশপুর গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা লুকমান, দুবইল সাহাপুর গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা ডামফু ও রবিউলসহ আরো অনেকে পরিষদ এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক খাস পুকুর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভোগদখল করে চলেছেন। সরকারি খাস পুকুরগুলো এভাবে প্রভাব খাটিয়ে দখল করায় স্থানীয় জনসাধারণের কোন কাজে আসে না। এছাড়াও সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
শুধু শফিকুল নয় তার মত একই কথা জানিয়ে উপজেলার বাঁধাইড় ইউপি’র জুমারপাড়া গ্রামের জার্জিস মোল­া ও বগা ইসরাইল জানান, বাঁধাইড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজে জুমারপাড়া মৌজার ১টি, জোতগোকুল ও রামদেবপুর মৌজার ৩টি বড় বড় খাসপুকুর দখলে রেখেছেন। এছাড়া বাঁধাইড় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নগেশচন্দ্র, সিকরামপুর গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা শাজাহান, বিএনপি নেতা তইমুর রহমান ও মশিউর রহমানসহ আরো অনেকে বাঁধাইড় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার প্রায় সাড়ে চারশ খাসপুকুর দখল করে ভোগ করে চলেছেন।
এনিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগে বলেন, সরকারি পুকুর দখলকারীরা এলাকার খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের ভয়ে সরকারি এসব পুকুর জলাশয় হতে কেউ ফসলের ক্ষেতে এতটুকু পানি সেচের জন্য ব্যবহার করতে সাহস পায় না। সরকারি এসব খাস পুকুর ও জলাশয়গুলোর আশপাশে অনেক ফসলি জমি রয়েছে। কিন্তু সেচ সঙ্কটের কারণে রবি মৌসুমে কোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। প্রতি রবি মৌসুমে জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। অথচ প্রভাবশালীরা সরকারি খাসপুকুরগুলো দেদারসে নিজের ইচ্ছে মত ব্যবহার করছেন। এভাবে পুরো উপজেলার ৯৬৮টি খাস পুকুর ও জলাশয়গুলো স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন জবর-দখল করায় সরকার বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে এসব সরকারি খাস পুকুরগুলো দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
এনিয়ে উপজেলার বাঁধাইড় ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের ইউনিয়ন পরিয়দ এলাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক সরকারি খাস পুকুর ও জলাশয় রয়েছে। এসব পুকুর ও জলাশয়গুলো পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ দেখভাল করতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে খাস পুকুরগুলো উপজেলা ভুমি অফিসকে দেখভালের জন্য নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ বা আদেশ বাতিলের জন্য তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করে তার পক্ষে আদেশ পান। হাইকোর্টের ওই আদেশের পেক্ষিতে উপজেলার প্রায় ৯৬৮টি খাসপুকুর ও জলাশয় লীজ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। দলের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে খরচ যোগান দিতে তিনি দুয়েকটি পুকুর দলীয় লোকজনকে দিয়ে মাছ চাষ করেন। তার এলাকায় শুধু তিনি নন তার মত আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র নেতারা সরকারি পুকুরগুলো দখল করে মাছ চাষ করছে বলে জানান তিনি।
এনিয়ে বাঁধাইড় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান হেনা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর হতে শুধু মাত্র তানোর উপজেলার খাস পুকুর ও জলাশয়গুলো সরকার দলীয় আওয়ামীলীগ নেতারা ভোগদখল করে চলেছেন। এসব পুকুর দখলমুক্ত করে লীজ প্রদান করা হলে সরকার বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। এতে করে এঅঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা পাল্টে যাবে। একারণে এবিষয়টি নিয়ে প্রায় সব পরিষদের চেয়ারম্যানরা বিভিন্ন মিটিংয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নলেজে দেন। এরপরও কোন কাজ হয়নি।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা ইয়াসমীন জানান, সরকারের নীতিমালা মোতাবেক উপজেলার প্রায় ৯৬৮ পুকুর ও জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবিদের মাঝে লীজ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এরই মাঝে উপজেলার বাঁধাইড় ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুকুরগুলো লীজ প্রক্রিয়া বাতিল করেন। এহেন প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা না থাকায় এলাকার প্রভাবশালীরা পুকুর ও জলাশয়গুলো ভোগদখল করছেন। তবে এসব পুকুর ও জলাশয়গুলো যেন লীজ প্রদান করা যায় এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!