কাজী আবু হুরাইরা শিলন : নওগাঁর মান্দায় দেশে চলমান ও বিরাজমান চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার খেসারত দিচ্ছে এখানকার খেটে খাওয়া সহ ধমর্-বর্ণ সর্ব শ্রেনীর অসহায় কৃষকরা। এমনিতে বাজারে শাক সবজি, আলু, বেগুনসহ উৎপাদিত কৃষি পণ্যের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে। এরপর আবার এ লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চলতি ইরি- বোরো মৌসুমের চাষাবাদের শুরুতেই চরম সার ও ডিজেল সঙ্কটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানকার কৃষকেরা। এ উপজেলার এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও কালোবাজারীরা দেশের এ রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ফাঁদ পেতে অতিরিক্ত মূল্যে সার ও ডিজেল বিক্রি করছে বলে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে । কিন্তু তারপরও অধিক ফলনের আশায় নিচু জমিগুলোতে আগাম ইরি-বোরো চাষের জন্য বাধ্য হয়ে বেশি মূল্যেই তারা সংগ্রহ করছেন। নওগাঁর শস্য ভান্ডার খ্যাত বৃহত্তম মান্দা উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চরম শঙ্কার মধ্যেও চলতি ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ ও রোপণের কাজ কৃষকরা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের হোঁচট খেতে হচ্ছে অতি মুনাফাখোর কিছু অসাধু ও কালোবাজারী পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কারণে। বর্তমানে কৃষকেরা চাষাবাদের কাজে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এ সময়েই সার ও ডিজেলের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা ক্ষোভের সাথে জানান। সরকার কর্তৃক বাজারে ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তার খুচরা দাম আটশ টাকা নির্ধারণ করলে ও বাজারের সব জায়গায় নয়শ পঞ্চাশ থেকে শুরু করে এক হাজার একশ বিশ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তারপরও লাইনে দাঁড়িয়ে দলা, জমাটবাধা ও নিম্নমানের সার নিতে কৃষকদের বাধ্য করা হচ্ছে। ডিলাররা জানান, এ বারে পরিবহন সমস্যা, বাড়তি ভাড়া ও সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়ায় একটু বেশি দামে সার বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, মান্দায় কোন সার সঙ্কট নেই। বেশি দামের কথা তিনি জানেন না। অপর দিকে বাজারে ডিজেলের দাম ও চড়া। প্রতি লিটারে দশ টাকার বেশি নেয়া হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে ডিজেলের দাম ৭২টাকা প্রতি লিটারে নেয়া হচ্ছে। তেল পাম্প মালিক স্টক শেষ আর তেল উত্তোলন করা যাবে না বলে তেল বেচা বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্য দিকে খুচরা পাইকারদের নিকট অনেক বাড়তি দামে তেল সরবরাহ করছে। ফলে কৃষকরা দুইভাবেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার ও ডিজেল তেল সরবরাহের জন্য প্রশাসনের সংশি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




