ads

শনিবার , ২৯ আগস্ট ২০২৬ |
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মধ্যরাতে কওমি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২:৫৫ অপরাহ্ণ

জাতীয় সংসদে গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হওয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং কর্মসূচি প্রতিহতের হুমকির মুখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

Shamol Bangla Ads

এর আগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ‘কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ’। সমাবেশ থেকে এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মশালা ও সমন্বয় সভা হতে না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জুলাই শক্তির ঐক্য চাই, সংঘাত নয়। কিন্তু ইসলাম ও আলেম-উলামাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপের পুরোনো সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’

Shamol Bangla Ads

বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে শনিবার বিকেলে এনসিপির নির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে ফেসবুকে এক বার্তায় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চাইতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-উলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন।

কনসার্ট বন্ধের বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে হাসনাত বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে পরীক্ষার পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলেছিল। পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে লাঠিাপেটায় শিক্ষার্থীরা আহত হয়। শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি চর্চা নিষিদ্ধ করেনি, কেবল শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিল।

হাসনাত আবদুল্লাহ স্বীকার করেন যে নৌকাবাইচের স্থান নিয়ে তাঁর তথ্যে ত্রুটি ছিল। সিলেটের ঘটনার তথ্য ভুলবশত ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলার কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার—মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল ও রথযাত্রা—সব ধর্মের ও মতের মানুষের সহাবস্থান থাকবে। সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

Need Ads