শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই বেদেপল্লীর একটি বিয়েবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ১৫ আগস্ট শনিবার সকালে ডেফলাই বেদেপল্লীতে নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন হামলার শিকার সেলিনা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সেলিনা আক্তার। ওইসময় তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সেলিনা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বেদেপল্লীরই ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার ছেলে, ছোট বোনের স্বামী, বাবা এবং তাকেসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করা হয়।
সেলিনা জানান, এর আগে ১২ আগস্ট রাতে তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরই ১৩ আগস্ট রাতে বিয়েবাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা চাপাতি, ছুরি, লোহার শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে তার ছেলেকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হলে সেটি তার কপালের বাম পাশে লাগে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করেন বলে দাবি করেন সেলিনা।
এ সময় তার ছোট বোনের স্বামীকেও লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। তার বাবাকেও মারধর করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিনা আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার ছেলের হাত থেকে দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট এবং একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে তারা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, হাঁড়ি-পাতিল, ট্রাংক এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া করা ডেকোরেটরের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করলে তারা রক্ষা পান বলে জানান সেলিনা। আহতদের মধ্যে দুজনকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিনা আক্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।




