তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিলা : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-কুমিলা- এর উদ্যোগে এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ২০ জানুয়ারি, ২০১৪ সোমবার কুমিলা সদর হাসপাতাল মিলনায়তনে সদর হাসপাতালের সেবা গ্রহীতাদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সহ-সভাপতি আলী আকবর মাসুমের সঞ্চালনে এবং সনাক সভাপতি আলহাজ্ব শাহ মোঃ আলমগীর খান -এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিলা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী। তিনি বলেন, ইয়েস সদস্যদের পরিচালিত এই কার্যক্রমের ফলে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরো উদ্যোগ নিবেন এবং এক্ষেত্রে সহায়ক শক্তি হিসাবে সনাকও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য জমির উদ্দিন খান জম্পি। ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য দিলনাশিঁ মোহসেন।

সিভিল সার্জন বলেন, কুমিলা জেলায় সুষ্ঠূ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। সেবাগ্রহীতার প্রত্যাশা এবং আমাদের সামর্থ্য – এ দুয়ের মধ্যে সমন্বয় আনয়নের কথাও তিনি বলেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে যে সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে, সে সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তিনি সেবাগ্রহীতা ও সেবাপ্রদানকারী উভয়ের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন কুমিলা সদর হাসপাতালে এই প্রথম এ ধরনের অনুষ্ঠান উপভোগ করলাম। তিনি রোগীদের সন্থষ্টির কথা শুনে ভাল লাগল। তবে এগুলো ধরে রাখার আহবান জানিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।
ডেপুটি সিভিল সার্জন আলহাজ্ব ডাঃ মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, আজ ভালো লাগছে আমরা সকলে মিলে আমাদের এই হাসপাতালকে শুধূ চট্্রগ্রাম বিভাগের নয় সারা দেশের মডেল হিসেবে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, আমরা যেন হাসপাতালের রোগী দেখার সময়টি যথাযথভাবে এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করি এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবো।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, সনাক হাসপাতালের যে সমস্যাগুলি উপস্থাপনের করেছে, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কুমিলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সনাকের অনেক অবদান রয়েছে। আমরা কুমিলা জেলার স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি। জনগনকে সচেতন করে হাসপাতালের স্বাস্থ্য জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আব্দুল বারী, কামরুন নাহার, রহিমা এবং রেহেনা হাসপাতালের সেবা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। সেবাগ্রহীতারা হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে সন্ত্বোষ প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভার সভাপতি এবং সনাক সভাপতি আলহাজ্ব শাহ মোঃ আলমগীর খান সভায় অংশগ্রহণ করার জন্য উপস্থিত সকলকে সনাকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সনাক সবসময় আপনাদের পাশে আছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন প্রতিবেদনে উলেখিত বিষয়গুলোর প্রতি সিভিল সার্জন মহোদয় সজাগ দৃষ্টি দেবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সভার মুক্ত আলোচনা পর্বে আরো অংশগ্রহণ করেন সদর হাসপাতালের আরএমও ডা: মোঃ মুজিবুর রহমান, ডাঃ এস.এম খশবু জান্নাত, ডা: মো: আতোয়ার রহমান, ডা: বোরহান উদ্দিন আহমদ, ডা: গাজী মো:মতিউর রহমান এবং উপ-সেবা তত্ত¡বধায়ক মাকসুদা বেগম। মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎকবৃন্দ, সনাক কুমিলার স্বজন, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ড্স গ্রুপের সদস্যবৃন্দ, সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার।




