রাজধানী ঢাকার মিরপুরে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। ওইসময় অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পাচারের অভিযোগে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও এলাকার মগবুল হোসেনের ছেলে মো. সাজুদ্দিন (২৪)-কে আটক করা হয়। তাকে ঢাকার মিরপুর-১২ এলাকার ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন সোনালী বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।
উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩টি ধনেশ, ৩টি চশমা পরা হনুমান, ১৩টি পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ, ১২টি টিয়া পাখি, ১টি ময়না, ৩টি লজ্জাবতী বানর, ১টি ঈগল পেঁচা, ৩টি এশিয়ান পাম সিভেট এবং ৩টি সজারু।

বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য তাদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক জানান, প্রাথমিক তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ হাদিস রহমান (৪০)-এর নামও উঠে এসেছে। তিনি ইতোমধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া বন বিভাগের এক অভিযানে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেছে যে, হাদিস রহমানের স্ত্রী খুশি অনলাইনের মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রম সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে এবং পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ আইন লঙ্ঘন করে কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন বন্যপ্রাণী শিকার, সংগ্রহ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় বা পাচারের সঙ্গে জড়িত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে বন অধিদফতর। বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।




