শেরপুরে পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতে সহযোগিতার অভিযোগে সুন্নত আলী সন্তু (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৩ মে শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে বিভিন্ন সময় ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন স্থানীয় শাহিন মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটি একপর্যায়ে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক গঠনে পরিবর্তন হলে কাউসার মিয়া সুন্নত আলী সন্তুর সহযোগিতায় গর্ভপাত করান। গর্ভপাতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল চাপ প্রয়োগ করে। পরে ২২ মে শুক্রবার শিশুর মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

শিশুটির মা জানায়, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছে। আবার গর্ভপাত করিয়েছে, এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার মেয়ে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, ১২ বছরের একজন কন্যাশিশুকে গাইনি ওয়ার্ডে শুক্রবার ভর্তি করা হয়েছে। যেহেতু এটি একটি পুলিশ কেস, তাই আমরা কিছুটা অপেক্ষা করছি। মেডিকেল বোর্ড বসে পরবর্তী বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগামীকাল বিস্তারিত বলা যাবে। আর বাকি বিষয়গুলো মেডিকেল বোর্ড গঠনের পর জানানো হবে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শিশুটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ, গর্ভপাতের অভিযোগে সদর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে আসামি সন্তুকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে শনিবার বিকেলে আসামি সন্তুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




