জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। এখন চলছে গণনা। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৫০.৫২ ভাগ।

এর আগে আজ ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। এসময় তিনি কিছু কেন্দ্র থেকে তার এজেন্ট বের করে দেওয়া, হুমকি-ধামকি প্রদানসহ জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেছেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে এসব অভিযোগ করছেন জামায়াত প্রার্থী। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষ ছিল। মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন।
এ আসনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত সাবেক তিনবারের এমপি ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) সমর্থিত মিজানুর রহমান।
এদিকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কাজ করেছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ আসনের দু’টি উপজেলায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১১৫০ সদস্য মোতায়েন ছিল।
উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়।




