প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে জিতেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তাই তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি সিরিজটি নির্ধারণী ম্যাচ। এই ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পেয়েছে বাংলদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহীন আফ্রিদিকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন সাইফ। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫৫ বলে ৩৬ রান।
দুর্দান্ত শুরুর পর সাইফের মতো ইনিংস বড় করতে পারলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। হারিস রউফের করা বলে আউট হওয়ার আগে করেন ২৭ রান। এদিকে অভিষেক সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এদিন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বাউন্ডারি মেরেই ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলেন তানজিদ। একই ওভারের পঞ্চম বলে তার ব্যাট থেকে আসে ছক্কা। লেগ সাইডে ফ্লিক করে বলকে বাউন্ডারির ওপারে আছড়ে ফেলেন তিনি। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান ছিল ৫০। যেখানে ৩৩ বল খেলে ৩০ রান করে নেতৃত্ব দেন তামিম।

পাওয়ার প্লের পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এই বাঁহাতি ওপেনার। একাদশতম ওভারে পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদকে হাঁকান একটি করে চার ও ছক্কা। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ভাঙে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। যেখানে ৫৪ বলে ৬৩ রানের অবদান তামিমের। তখন ড্রেসিংরুমে ফেরা সাইফ ৩৬ বল খেলতে খরচ করেন ৫৫ রান। বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশের এমন শুরুতে সিংহভাগ অবদান তামিমই রেখেছেন! ৪৭ বলে ফিফটি করার পথে চারটি ছক্কা ও তিনটি চার মেরেছেন তিনি। এর মধ্যে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৩ হাজার রানের মাইলফলকও টপকেছেন তামিম।
ওপেনিং পার্টনার সাইফকে হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে আবার জুটি গড়েন। এবার তাদের জুটিতে আসে ৫০ পূর্ণ হয় ৬১ বলে। শান্তর বিদায়ে ভাঙে ৬৭ বল স্থায়ী ৫৩ রানের জুটি। বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান তিন চারে ৩৪ বলে করেন ২৭ রান। মাঝের কিছু ওভার বল আচমকা নিচু হয়ে আসা শুরু করলে বাংলাদেশি ব্যাটাররা কিছুটা ভুগছিলেন। তবে বাকিদের মতো অতটা ভোগেননি! ২৯ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১৫৮, যেখানে ৮৭ রানই ছিল তামিমের।
নব্বইয়ের ঘরে বেশিক্ষণ আটকে থাকেননি তামিম। ৯৪ রানে থাকা অবস্থায় স্লটে বল পেয়েই ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আবরার আহমেদের করা নিরীহ এক শর্ট ডেলিভারিতে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
ফেরার আগে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। সমান বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি ওপেনার। এ নিয়ে ৩০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৮ ছক্কা হয়ে গেলো তামিমের। তার উপরে আছেন ১৪ জন। তবে এর মধ্যে এখনো খেলছেন এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র ২! ৯৮ ম্যাচে লিটন কুমার দাসের ছক্কা ৪৮টি আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৯ ছক্কা মেরেছেন ১১৭ ম্যাচে।




