রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি ইরানের ৬টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই শহরগুলো হলো ইস্ফাহান, কোম, লোরেস্তান, কারাজ, কেরমানশাহ ও তাবরিজ। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরনা তাদের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।

২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টার দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়। তার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে এই ৬ শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এবং ইরনা।
ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, তেহরানে যে স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তার কাছেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তর।
এদিকে শনিবার তেহরান-সহ ইরানের ৬ শহরে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে সেটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ অভিযানেরই অংশ বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ( এবং যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানে ইসরায়েলের পাশে আছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, এখন ইরানে অভিযানের ‘প্রাথমিক পর্যায় চলছে’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পনা অনুসারে, এই প্রাথমিক পর্যায় স্থায়ী হবে আগামী চার দিন পর্যন্ত।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছিল। গত কাল শনিবার জেনেভায় কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে সংলাপ। সংলাপ শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন— বৈঠকের ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তেহরান-ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।




