ads

সোমবার , ১৩ জানুয়ারি ২০১৪ | ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে আ’লীগ ও জামায়াত নেতাদের একত্রে ভুরিভোজ

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জানুয়ারি ১৩, ২০১৪ ২:২৭ অপরাহ্ণ

Satkhira-map2নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা : ভুরিভোজ ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহিংসতার মামলায় জামায়াতের পলাতক আসামীদের মধুর মিলন। ১২ জানুয়ারী রবিবার সন্ধ্যার দিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহনিয়া গ্রামে জামায়াতের সাবেক সাংসদ মাওলানা রিয়াছাত আলী বিশ্বাসের বাড়িতে এক ভুড়িভোজের মাধ্যমে ওই মিলন ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলার সর্বত্রই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

Shamol Bangla Ads

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী জানান, যৌথবাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলাসহ আশাশুনির বিভিন্ন ইউনিয়নে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালায়। তারা আজও সাঈদী মুক্ত মঞ্চ নামে খ্যাত জামায়াতের ঘাটি মিনি পাকিস্তান হিসেবে খ্যাত প্রতাপনগরে অভিযান চালায়নি। ফলে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের হত্যা, তাদের বাড়িসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পলাতক আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতাপনগরে আত্মগোপন করে রয়েছে। তারা আল আমিন মহিলা মাদ্রাসার পাশে ইউনিয়ন জামায়াতের রোকন শাহীন সরদারের বাড়িতে নিয়মিত খাওয়া দাওয়া শেষে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার পরিকল্পনা করে তা কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।
কয়েকটি সহিংসতার মামলার বাদি হওয়ায় প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও আশাশুনি উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনসহ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জামায়াত শিবিরের ভয়ে প্রতাপনগরে আসতে পারেন না। এমনকি গত কোরবানির ঈদে প্রতাপনগরে দাওয়াত খেতে এসে লাঞ্ছিত হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এ অবস্থায় প্রতাপনগরের হিন্দু সম্প্রদায়সহ আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।
তারা আরো জানান, রবিবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোস্তাকিম আহম্মেদ, উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন, আওয়ামী লীগ নেতা ও শ্রীউলা ইউপি চেয়ারমান আবু হেনা শাকিলসহ আওয়ামী লীগের এক ডজন নেতা জামায়াতের সাবেক সাংসদ মাওলানা রিয়াছাত আলী বিশ্বাসের বাড়িতে যান। এ সময় জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক মÐল, সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের সদস্য জামসেদ আলী, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আবু বক্কর ছিদ্দিক, মাওলানা নুরুল আফছার, আফছারউদ্দিন মুন্সি, প্রতাপনগর ইউনিয়ন জামায়াতের রোকন শাহীন সরদার, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর রিয়াছাত আলীসহ কমপক্ষে শতাধিক জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অধিকাংশ জামায়াত শিবিরের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা এবিএম মামুন হত্যা, যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন হত্যা, পুলিশের উপর হামলা, পুলিশের গাড়ি ও সংখ্যালঘুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সরকারি গাছ কেটে রাস্তা অবরোধসহ কমপক্ষে ছয়টি থেকে একডজন করে মামলা রয়েছে। এ সময় প্রতাপনগর ইউপি’র কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। খাবারের মেন্যু হিসেবে তিন প্রকার মাংস ও তিন প্রকার মাছের ব্যবস্থা করা হয়। তারা আরো জানান, খাওয়া শেষে ইউনিয়ন পরিষদ চালানোর স্বার্থে জামায়াত শিবিরের সঙ্গে মীমাংসার প্রস্তাব দেন কৃষকলীগ নেতা জাকির হোসেন। এ সময় জামায়াত নেতারা তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সকল এজাহার ও চার্জশীটভুক্ত সকল মামলা যেকোন মূল্যে তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতারা চার্জশীটভুক্ত আসামীদের পক্ষে বাদিদের এফিডেফিট, যে সমস্ত মামলার বিচারাধীন রয়েছে ওইসব মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল ও মামলার পিছনে তাদের যে পরিমান খরচ হয়েছে তা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করার উভয়পক্ষের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করে। ফলে চার্জশীট না হওয়া মামলাগুলো থেকে অব্যহতি পাওয়ার এক সপ্তাহ পর কৃষকলীগ নেতা জাকির হোসেন প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পান। এ মহামিলনের কথা নিশ্চিত করেছেন প্রতাপনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ও আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর আলম লিটনসহ ৩ জন ইউপি সদস্য।
এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠণিক সম্পাদক ও প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, তিনি বা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমসহ কোন নেতা জামায়াত নেতা রিয়াছাত আলী বিশ্বাসের বাড়িতে যাননি এমন কথা বলা যাবে না। তবে তিনি বিপদে আছেন উল্লেখ করে বলেন, সবই তো বোঝেন! দয়া করে এসব পত্রিকায় লিখবেন না। প্রতাপনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর রিয়াছাত আলী এসব নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, এ ধরণের ঘটনা তার জানা নেই।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!