শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অন্তরা আক্তার আঁখি (২২) নামে এক গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেছে ওই নারীর পরিবার। ৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ফুলপুর গ্রামে ওই বিষপানের ঘটনার পর বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পিতা আব্দুল হাই বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নালিতাবাড়ী থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই পুলিশ নিহতের স্বামী আলমগীর হোসেনকে (৩২) গ্রেফতার করে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে নালিতাবাড়ী উপজেলার ফুলপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে বিয়ে হয় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আব্দুল হাই এর মেয়ে আঁখির। তারা উভয়েই তখন গাজীপুরে গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এদিকে বিয়ের পর আলমগীর স্ত্রীসহ নিজ এলাকায় আসার পর থেকেই আঁখিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। পরে প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়৷ সন্তান হওয়ার পর আঁখির উপর নির্যাতনের মাত্রা আরোও বেড়ে গেলে সম্প্রতি আঁখির পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে গত চারদিন আগে আলমগীর শশুর বাড়ি থেকে আঁখিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

এদিকে গত বুধবার রাতে আলমগীর শশুর বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা আনতে বলে আঁখিকে। এতে আঁখি অস্বীকৃতি জানালে আলমগীর তাকে মারধর করে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে আঁখি বিষপান করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর তার মৃত্যু হয়।
আঁখির পিতা আব্দুল হাই বলেন, আলমগীর আমার মেয়েটারে অনেক মাইর ধইর করছে। মেয়ের সুখের লাইগ্যা জামাইরে মেলা ট্যাহা দিছি। একতা সিএনজিও কিন্না দিছিলাম। কিন্তু আমার মেয়েটারেই তো অহন মাইরা ফালাইলো৷ আলমগীর সন্ধ্যায় আমারে ফোন কইরা কয় তগর মাইয়্যা বিষ খাইয়া মরছে। আইসা লাশটা নিয়া যা। আমার মেয়েরে যারা মাইরা ফালাইছে আমি তাগর শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। গৃহবধূর পিতা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়েরের পর রাতেই একজনকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




