এবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে ২১ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী এবং ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু রয়েছে। ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাদের নাকুগাঁও সীমান্ত এলাকার ১১১৬ মেইন পিলার দিয়ে তাদের পুশইন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মেহেদি হাসান।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার হাতিপাগাড় বিজিবি ক্যাম্পের আওতাধীন নাকুগাঁও সীমান্ত এলাকার ১১১৬ মেইন পিলার দিয়ে ২১ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইন করে কিলাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখে। আটককৃতদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ, ৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে ও ৩ জন শিশু রয়েছে। আটককৃতরা হচ্ছে সাব্বির (৪০), শামসুল আলম (৪৩), রোমানা বেগম (২৪), তোহা (৯), নুরতাজোল (৪), রিয়াজ (৪), আরমান (১), রবি খানম (২৪), হাসিনা বেগম (২২), শাহিনা আক্তার (৩), শুকতারা (৪ মাস), সেতারা বেগম (৩৫), বোরহান (৮), হাতেমা বেগম (৪০), নুরুল আবসার (১৭), জিন্নাতারা (১৫), নুরুল ইসলাম (১৩), সিরাজ (১১) আজিজুল ওসমান (৯), আয়েশা বিবি (৬) ও একজন বোবা নাম বলতে পারে না।
বিজিবি আরও জানায়, আটককৃতরা ৬টি পরিবারের সদস্য। তারা ২০১৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে যায় এবং সেখানে শ্রমিক হিসেবে হোটেলে ও বাসাবাড়িতে কাজ করতে শুরু করে। গত একমাস আগে ভারতীয় পুলিশের অভিযানে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে মায়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক হিসেবে ছিল বলে পরিচয় দেয়। পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় পুলিশ।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মেহেদি হাসান জানান, আটককৃতদের বিষয়ে আরও যাচাইবাছাই এবং পরবর্তী কার্যক্রমের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই একই উপজেলার পানিহাতা সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে পুৃশইন করে বিএসএফ।




