ইয়ানুর রহমান, যশোর : বিরোধী দলের অবিরাম অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে রপ্তানি, কমেছে ৮৫ শতাংশ। তবে আমদানি রয়েছে স্বাভাবিক। কর্মহীন হয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে ৬ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারি। প্রানহীন হয়ে পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল।

বেনাপোল চেকপোষ্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয় গড়ে ৩শ ট্রাক পন্য, অথচ ডিসেম্বরের এক সপ্তায় রপ্তানি হয়েছে ২১১ ট্রাক পন্য। তিনি আরও বলেন, এই সময় ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৮০৯ ট্রাক পন্য। আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।
অবরোধে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় বন্দরে পন্য উঠানামা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় বন্দরে কর্মরত হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা পড়েছে মহা বিপাকে। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছে এবং অর্থ সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলেছেন বেনাপোল হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রাশেদ আলি। ভারত থেকে আমদানি করা পন্য রাখার জায়গা নেই গুদামে আবার বন্দর থেকে পন্য সরবরাহ বন্ধ। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বন্দরের এক হাজার দুইশত নিবন্ধিত শ্রমিক।
এই বন্দরে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩শ’ ভারতীয় ট্রাক আমদানি পন্য নিয়ে আসে আর প্রতিদিন গড়ে ৫শ’ বাংলাদেশি ট্রাক আমদানি পন্যচালান নিয়ে বন্দর ছাড়ে। হরতাল অবরোধে বেনাপোল বন্দরে আমদানি রপ্তানি চালু রয়েছে তবে কোন বাংলাদেশি ট্রাক বন্দর ছেড়ে না যাওয়ায় বন্দরে আমদানি পন্যের জটলা স্মরনকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলেন বেনাপোল কাষ্টমস ক্লিয়ারিং ফরোয়াডিং এজেন্ট আলী কদর সাগর জানান। বন্দরের সিএন্ডএফ ও ট্রান্সপোর্ট এর ৪ হাজার কর্মচারি বেকার বসে আছে ।
বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আনোয়ার হোসেন মল্লিক জানান, অবরোধে দু’দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি চালু রয়েছে । আমদানি চালু থাকলেও বন্দরে পন্য রাখার জায়গা না থাকায় অবরোধের মধ্যে শুধুমাত্র অতিপ্রয়োজনীয় কাচামাল বন্দরে প্রবেশ করছে কিন্ত বন্দরে কোন পন্য খালাস হচ্ছেনা। দেশের অভ্যন্তর থেকে পন্যবাহি ট্রাক আসতে না পারায় রফতানি প্রায় বন্ধ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দর গুদাম থেকে ও কোন পন্য লোড হচ্ছে না।
বন্দর থেকে পন্য খালাশ না হওয়ায় বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে পন্যজট।এ ই পন্যজট কমাতে পুরো সপ্তাহ বন্দর ও শুল্কবিভাগ খোলা রাখা হলেও ব্যবসায়ীরা পন্যচালান খালাস না নেওয়ায় আমাদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে বলে জানান বেনাপোল শুল্ক ভবনের সহকারী কমিশনার মাহবুব হাসান।




