মায়ানমারে চলমান সংঘাত, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা, বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত হওয়াসহ নাফ নদের তীরে সাধারণ মানুষের জীবিকা ব্যাহত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তা আরো বড় নিরাপত্তা হুমকিতে রূপ নিতে পারে।’ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ২০ এপ্রিল রবিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যাঁ-পিয়েরে লাক্রোয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ওইসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, তার এই সফর রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নতুন আশা জুগিয়েছে। সাক্ষাৎ চলাকালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি নারী নিয়োগের আহ্বান জানান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ওইসময় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশি নারীদের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ বাড়াতে আমি বিশেষভাবে উৎসাহ দিচ্ছি।
প্রধান উপদেষ্টা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ‘পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেমে’ (পিসিআরএস) বাংলাদেশের ৫ টি ইউনিট র্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট পর্যায়ে রাখার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। ড. ইউনূস জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায়, সদর দপ্তর এবং মিশন উভয় পর্যায়ে বাংলাদেশিদের নেতৃত্বমূলক অবস্থানে প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। ওই বিষয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানান জ্যাঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া।




