মোঃ গোলাম রব্বানী, পাইকগাছা (খুলনা) : ”নবীর শিক্ষা করোনা ভিক্ষা মেহনত করো সবে” বেঁচে থাকার জীবন সংগ্রামে আলোচিত নাম কপিলমুনির শহরালী গাজী। দেশের প্রায় সর্বত্র তার বিচারণ। ফুটপথই উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন তার। কখনও যাদু, কখনও কবিরাজী, আবার কখনও বা সাপুড়িয়া আবার কাঁচামাল বিক্রেতা

আর সবশেষে পুরাতন গরম কাপড়ের ব্যবসা করে ভালভাবেই চলছে তাদের সংসার জীবন। অদম্য সাহস আর সততা নিয়ে জীবনের প্রায় ৪৭ টি বছর কেটে গেছে প্রতিবন্ধি শহরালীর। প্রতিবন্ধিতার কাছে কখনও মাথা নত করেনি সে। তাই প্রিয় নবীর শিক্ষা নিয়ে যে সুষ্ঠভাবে চলা যায় শহরালী তার জলন্ত উদহারণ।
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামের বাসিন্দা শহরালীর বাবার নাম মরহুম ফাকের আলী গাজী। দাম্পত্য জীবনে ৩ কন্যা ও ২ পুত্রের জনক শহরালী ইতোমধ্যে ২ কন্যাকে স্বসম্মানে পাত্রস্থ করেছে। শহরালী এ প্রতিবেদককে জানায়, প্রকৃতির ঋতু বদলের সাথে সাথেই সে নিজের পেশাকে বদলিয়ে ফেলে আয়ের নতুন ধারা সৃষ্টি করে। তাই’ যখন যে সময় আসে তখন সেই বেশেই তার দেখা মিলে। বর্তমানে শীত মৌসুম তাই, যশোর থেকে গরম কাপড়ের গাইড কিনে এনে কপিলমুনি বাজারে পসরা সাজিয়েছে প্রতিবন্ধি শহরালী। পড়ন্ত বিকেলে শীতের ঘনঘটা থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। আর তা সামলাতে অনেকটা হিমশিম শহরালী। তারপরও ক্রেতাদের উপস্থিতি আর বেঁচাকেনা করে সে রীতিমত খুশি। সোমবারও ছিল অন্যান্য দিনের মতই।

জানাগেছে, গত কয়েক বছর যাবৎ কপিলমুনি বাজারের ধান্যচত্বরে বসে আসছে গরম কাপড়ের পসরা। এর আগে বাজারের রামকৃষ্ণ মন্দিরের পার্শ্বে পাওয়া যেত পুরাতন গরম কাপড়। তবে কাপড়ের গাইড খোলার সাথে সাথেই ভাল মালগুলি হাওয়া হয়ে যায়। কারন হিসাবে, স্থানীয় কিছু ব্যাক্তি গাইড খোলার সাথে সাথেই বরাবরের মতই সে সব মালামাল কিনে নিয়ে যায়। তবে উচ্চ ও মধ্যবিত্ব পরিবার বেশিরভাগ মানুষ এ কাপড়ের প্রতি দৃষ্টি’ সে কারনে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দামও অনেকটা চড়া।
প্রতিবান্ধ শহরালী জানায়, সে ছিন্নমুল মানুষকে অনেক কাপড় দিয়ে থাকে। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজ সেবা মুলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার কথা জানায় শহরালী। ইতোপূর্বে সে ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে দাঁড়িয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। আগামী নির্বাচনেও সে প্রতিদ্বন্ধীতা করবে বলে জানায়।




