‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শেরপুরের নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়ণখোলা অংশে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ড্রেজিং এবং ড্রেজিং কাজের প্রতিবন্ধকতা নিরসনে আলোচনা সভা হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর পাড়ে নারায়নখোলা গ্রামে বিআইডব্লিওটি’র সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ওই সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব গোলাম রাব্বি।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপ জন মিত্রের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলমগীর কবির, শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদ হাসান প্রিন্স, বিআইডব্লিওটিএ এর প্রকল্প পরিচালক মো. সাইদুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন, ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তরপাড়ের বাসিন্দা চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা (সিকদারপাড়া) গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সেলিম মিয়া, ডেবুয়ারচর গ্রামের সেলিম সারোয়ার, রেহাইঅষ্টধর গ্রামের আহাদুল ইসলাম, চরঅষ্টধর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক চরবসন্তী গ্রামের শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তরপাড়ের বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে যে জায়গা দিয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত সেটি তাদের বাপ-দাদাদের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তি। ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পাল্টে তাদের ভিটেমাটি, আবাদী জমি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, খেলার মাঠ সবকিছু নদেরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা চান নকশা অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্র নদ পূর্বে যেদিক দিয়ে প্রবাহিত ছিল সেদিক দিয়ে ড্রেজিং করা হোক। এতে করে তারা নদেরগর্ভে বিলীন হওয়া তাদের বাপদাদার নিজস্ব জায়গাজমি ফিরে পাবেন।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব গোলাম রাব্বি জানান, সাধারণত নদ বা নদী যেদিক দিয়ে বহমান তার বাইরে ড্রেজিং করার সুযোগ নেই। তারপরেও তিনি বিষয়টি নিয়মের মধ্যে থেকে ভেবে দেখবেন।

নারায়নখোলা গ্রামের কৃষক সামেদুল ইসলাম জানান, পূর্বে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ নারায়নখোলা গ্রামের আদর্শ গ্রাম ও টাঙ্গাইল্যাপাড়া দিয়ে প্রবাহিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী তা ব্যাপক ভাঙনের কারণে একেবারে উত্তর দিকে চলে এসেছে এবং এখনও ভাঙন অব্যাহত আছে। এতে করে নদেরগর্ভে চলে গেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজস্ব শতশত একর আবাদী জমিসহ নানা স্থাপনা। সবকিছু হারিয়ে অনেকেই এখন পথের ভিখারি। নদের গতিপথ পাল্টে যাওয়ায় নদের দক্ষিণ পাড়ে সৃষ্টি হওয়া চরে লোভ পড়ে প্রভাবশালীদের। তারা প্রথমে নানা কৌশলে চরের এসব জমি নানাজনের নামে লিজ নেয় এবং পরে তা নিজেদের নামে লিখে নিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি ও ফসল আবাদ করছে।
উল্লেখ্য, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে শেরপুরের নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা অংশে নদ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ। বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের দু’পাড়ের মানুষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। উত্তর পাড়ের মানুষ চায়, নকশা দেখে পূর্বে যেদিক দিয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত ছিল সেদিক নিয়ে ড্রেজিং করা হোক। আর দক্ষিণ পাড়ের মানুষের বলছে, এখান দিয়ে নদ ড্রেজিং করা হলে শতশত পরিবার তাদের বসতঘর, ভিটেমাটি ও আবাদী জমি হারাবে।




