শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে দায়ের কোপে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৮ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে শেখ ফরিদকে (৪২) প্রধান আসামি করে ২০ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই ভুলু মিয়া। নিহত দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ কালীনগর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে। এদিকে ওই মামলায় শেখ ফরিদের স্ত্রী খুশি বেগম (৩৫) ও মামা ময়দান আলী (৫৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ কালীনগর গ্রামে ওই খুনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নালিতাবাড়ী পৌর শহরের দক্ষিণ কালীনগর এলাকায় সড়কের পাশে দেলোয়ার হোসেনের মনোহারি দোকান। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ওই দোকানের সামনে ওই এলাকার বাসিন্দা শেখ ফরিদ সুদের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তারা মিয়াকে চাপ দেন। এ সময় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তারা মিয়ার মামাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন ঝগড়া থামিয়ে দোকানের সামনে থেকে তাঁদের সরে যেতে বলেন। এ সময় শেখ ফরিদ ক্ষিপ্ত হন। তিনি বাড়ি গিয়ে তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এসে হামলা করেন। এ সময় দেলোয়ারকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তাঁর ভাই লিটন মিয়া, মজিবুর রহমান, লিটনের স্ত্রী সুন্দরী বেগম ও ছেলে রায়হান। মারধর ও দায়ের কোপে দেলোয়ারসহ ৫ জন আহত হন।
এলাকাবাসী আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে ফুলপুর উপজেলায় দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। অন্য চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে মামলা করেছেন। ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




