দেবিদ্বার(কুমিল্লা)প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা সদরের সড়ক ও জণপদ বিভাগের নিয়ন্ত্রনে থাকা আলোচিত এবং জণদূর্ভোগ খ্যাত ‘দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক’র একাংশ এবং দেবিদ্বার নিউমার্কেট গোলচত্তর থেকে চান্দিনা সড়কের মাথা পর্যন্ত প্রায় ৮শ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। স্থানীয়দের বাঁধা এবং প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট পৌর-প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহযোগীতায় রাতের অন্ধকারে নির্মান কাজ করে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর পক্ষে শুক্রবার সকালে মোঃ খলিলুর রহমানের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে দেবিদ্বার পৌরপ্রশাসক ও দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন পৌর সভার সহকারী প্রকৌশলী জোবাইদা ইয়াছমিনকে সড়ক নির্মান কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ উপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দেয় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা।

ইতিমধ্যে দেবিদ্বার নিউমার্কেট গোলচত্তর থেকে চান্দিনা সড়কের মাথা পর্যন্ত প্রায় ১শ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করে কস্তুরী ফেনা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং বৃহস্পতিবার থেকে সড়ক চলাচল উন্মোক্ত করে দিলেও শুরুতেই ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে পেলেস্তার ও ইটের সুরকী উঠে ছোট ছোট গর্ত দেখা দিয়েছে। অপর দিকে বৃহস্পতিবার জণদূর্ভোগ খ্যাত ‘দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক’র একাংশের ৭শ মিটারের কাজ চলছে লাল মাটি দিয়ে, স্থানীয়রা উক্তকাজে বাঁধা দিলে কাজের তদারক কর্মকর্তা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহেদুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, এসব সামগ্রী উন্নতমানের এবং এসব সামগ্রী দিয়েই কাজ চলবে। একই কথা জানালেন, পৌর সভার সহকারী প্রকৌশলী জোবাইদা ইয়াছমিন তিনি বলেন, নিম্নমানের সূরকী হলেও ধুয়ে ফেললে পরিস্কার হয়ে যাবে।
অভিযোগকারী মো খলিলুর রহমান বলেন, জণগনের ট্যাক্সের টাকায় এ সড়ক সংস্কার হচ্ছে। সীমাহীন দূর্নীতির কারনে অল্পকিছুদিনের মধ্যেই আবারো দূর্ভোগের মুখমোখী হবে সাধারন জনগণ। একাংশের কাজ একদিনেই বৃষ্টি ছাড়াই পেলেস্তার উঠে গেছে, জণস্বার্থে দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন’র মাধ্যমে দূর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারমান ও উপজেলা প্রেসক্লাবকে অনুলিপি দেই। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গায়ের জোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ জনতা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং অসাধু পৌরক কর্মচারিদের উপর চাপা ক্ষোভ রবরাজ করছে।
উল্লেখ্য গত ৩/৪বছর ধরে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ‘দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক’র খানাকন্দ আর বেহাল অবস্থা ‘জণদূর্ভোগে পরিনত ছিল। বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়ালেও সড়কের বেহাল অবস্থার উন্নয়নে স্থায়ী সমাধানে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। গত বছরের এপ্রিল মাসে ‘দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক’র প্রায় ৭শ মিটার সড়ক সংস্কারে ১৮লক্ষ টাকা বরাদ্ধ হলেও কার্যাদেশ পাওয়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ না করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে একনের সভায় প্রায় ৫৪কোটি টাকা ব্যয়ে উক্ত ৭শ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য প্রস্তাব অনুমোদন হয়। কার্যাদেশ পেতে বিলম্ব হওয়ার আশংকায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ওই কার্যাদেশ পাওয়ার পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত সর্বসাধারনের চলাচলের স্বার্থে দেবিদ্বার পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় ৩৫লক্ষাধিক টাকা বয়ে দুই গ্রুপে ‘দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক’র একাংশের (কলেজ রোড থেকে উপজেলা পরিষদ’র মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা বেগম’র বাড়ি পর্যন্ত) ৭শ মিটার প্রায় ২০লক্ষ টাকা এবং ‘কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক’র দেবিদ্বার নিউমার্কেট গোলচত্তর থেকে চান্দিনা সড়কের মাথা পর্যন্ত প্রায় ১শ মিটার প্রায় ১৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কল্পে দরপত্র আহবান করা হয়। উক্ত দু’টি প্রকল্পকাজ পান একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান । সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সহযোগীতায় নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কের নির্মান সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উছঠছে।




