পাবনা প্রতিনিধি : ঋতুর পালা বদলে শীতের আগমনী বার্তায় মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে সৌন্দর্য্য মন্ডিত সরিষা ফুল। গ্রামের দিগন্ত মাঠ সেজেছে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ সকলকেই আকৃষ্ট করে। পাবনার ঈশ্বরদীসহ অধিকাংশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে সরিষা গাছ। কিছুদিনের মধ্যে উঠে আসবে চাষিদের প্রতিক্ষিত ফসল সরিষা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার ফলে এ বছর ঈশ্বরদীতে সরিষার বাম্পার ফলন হবে এমনটাই আশা করছেন কৃষকেরা। কিন্তু হঠাৎ করেই বুধবার থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ায় সরিষা চাষিরা কিছুটা সংকিত হয়ে পড়েছে। কারন মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারনে সরিষা ক্ষেতে ম্যাদা জাতীয় পোকার আক্রমনে ফলন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৮০ হেক্টর। এবার আবাদ হয়েছে প্রায় ৯৮৩ হেক্টর যা লক্ষমাত্রা অতিক্রম করেছে।
কৃষকেরা জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ভালো ফসল হবে এমনটাই আশা করছে তারা। তবে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের কোনো ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের। তাদের মতে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর যদি কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ যথারীতি দেখা শোনা করে তাহলে অনেক অনাবাদি জমিতে আরও বেশি সবজিসহ সরিষা চাষ করা সম্ভব।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগীতা এবং সরিষার ন্যায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলের কৃষকরা ধান চাষের পাশাপাশি সরিষা চাষে আরও বেশি এগিয়ে আসবে।
সরিষা শাক এখন খুবই জনপ্রিয়। তাই এ অঞ্চলের অনেক কৃষক শুধু শাক বিক্রি করতেই সরিষা চাষ করেন। অল্প সময়ে বেশি লাভ হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। তারা বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে হাতে টাকা পাওয়া যায় তাই শাক বিক্রি করে দেই।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খুরশিদ আলম জানান, মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করলে ৬-৭ জনের পরিবারের এক বছরের তেলের চাহিদা মিটে যায়। উপজেলায় এবার সরিষার ফলন বেশ ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাজারে সরিষার দাম ভালো পাওয়া গেলে কৃষকের লাভের অংকটা একটু বেশি হবে। তিনি আরও বলেন, জমিতে বিঘায় চার মণ কোন কোন জমিতে পাঁচ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। এবার দাম ভালো পেলে আগামীতে ঈশ্বরদীর কৃষকেরা সরিষা চাষে আগ্রহী হবে।




