ads

মঙ্গলবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ওবাহে হাসিনা-খালেদাক কনতো, এগুলা বন্ধ করুক

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৩ ৩:২৪ অপরাহ্ণ

se rderrtমজনু, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ : রূপগঞ্জ উপজেলার বরাব’র ‘শ্রমিক হাটে’ টানা ৩ দিন অপেক্ষা করেও কাজ জোটেনি দিনমজুর কামাল হোসেনের। ৫ ছেলেমেয়েসহ ৭ জনের সংসার। জমানো যা ছিল তা সবই শেষ। সামনের দিনগুলো কেমন করে চলবে জানা নেই তার। দিনমজুর কামাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘কাই আজা (রাজা) হইবে সেটা নিয়া ঝগড়া, আর হামরা কাম পাই না, ওবাহে হাসিনা খালেদাক কনতো এগুলা বন্ধ করুক।’
‘শ্রমিক হাটের’ পঞ্চাশোর্ধ্ব লাল মিয়া মাটি কাটার কাজ করেন। কাজ না পেয়ে হতাশ ভঙ্গিতে বসেছিলেন। সাংবাদিকের কাছে এসে বললেন, ‘পরিস্থিতি ভালা না। কাজ নেই। চনপাড়া বস্তিতে তার বাড়ি। দুই মেয়ে, স্ত্রীসহ ৫ জনের সংসার। মাটি কাটার কাজ করে ২শ ৫০ থেকে ৩শ টাকা আয় করে কোনোরকমে চলে যেত তার সংসার। হরতাল-অবরোধে কাজ না পেয়ে নিদারুণ কষ্টে চলছে তার সংসার। ঘুমের ঘোরে ঠেলাগাড়ি ভ্যানের পাশে দাঁড়াতে না পেরে ভ্যানের ওপরে উঠে বসেছিলেন ভ্যানচালক রিয়াজুল ইসলাম। তারাব বিশ্বরোড মোড়ে ট্রান্সপোর্ট থেকে মালামাল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিয়ে আয়-রোজগার ভালোই হতো। কিন্তু টানা অবরোধের কারণে তার আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ। ভাইবোন-সন্তান ৮ জনের সংসার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। এ রকম চলতে থাকলে বাঁচার পথ থাকবে না। পথের ওপর ভ্যান দাঁড় করিয়ে মলিন মুখে বসেছিলেন কেশব আলী। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটি ট্রিপও মেলেনি। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কোনো ট্রিপ পাইনি। আরও এক ঘণ্টা অপেক্ষা করি চলি যাইম।’ স্ত্রী এবং ছেলেমেয়েসহ ৬ জনের তার সংসার। জনি জানালেন, দিনে আগে আয় হতো ৪শ থেকে ৫শ টাকা। হরতাল-অবরোধের কারণে এক মাস ধরে দিনে ১শ টাকাও আয় হয় না।
চনপাড়া এলাকার সিএনজিচালক আবু খায়ের, রূপগঞ্জ এলাকার নাজির, ভক্তবাড়ি এলাকার মজিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘রাজনীতিতে সহিংসতা ভর করায় রাজনীতি আজ রাজনীতি থাকছে না। অনেকের বক্তব্য অনুযায়ী এটি অপরাজনীতি। আমরাও এই মতের সঙ্গে একমত। দুই নেত্রীকে সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। কারণ মানুষ রাস্তায় বের হতে পারবে না- এমন অবস্থা তো কাম্য হতে পারে না।’ অপরাজনীতির ঘা যে মানুষের পেটে কত তীব্রভাবে লাগছে, তা বোঝা গেল বরাব ও তারাব বিশ্বরোডে শ্রমিক হাটে, ভূলতা বাসস্ট্যান্ড, ভোলাব, কাঞ্চন এলাকা ঘুরে। পঞ্চাশ বছর বয়সী অল্প লেখাপড়া জানা ৩ মেয়ের জনক অটোরিকশাচালক শোনালেন তার দুঃখের কথা, রাস্তায় গাড়ি চালাতে না পেরে গাড়ির ব্যাটারি ড্যাম হয়ে গেছে, ক্ষতি হয়েছে বেশ টাকা, একটি আম গাছ ছিল তা বিক্রি করে মেয়ের পড়ার খরচ দিতে হয়েছে। বড়ই আফসোস তার আম গাছটি চলে গেল ফালতু রাজনীতির জন্য। ভূলতা বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির সামনে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক এলাকার সিএনজিচালক মো. ইসমাইল হোসেন। ‘ট্রিপ নাই। সকাল ৭টা থেকে বসে আছি।’ তিনি জানান, প্রতিদিন তার সবমিলে এক হাজার টাকা আয় না হলে কিছুই থাকে না। কিন্তু সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও কোনো ট্রিপ পায়নি। এমন চলতে থাকলে গাড়ি বিক্রি করে অন্য পেশায় যেতে হবে। ৭ জনের সংসার নিয়ে সে ভীষণ চিন্তিত। ইসমাইল হোসেনের মত রূপগঞ্জ উপজেলার ২ টি পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে।

Need Ads
error: কপি হবে না!