শ্যামলবাংলা ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। ইইউ’র অভিন্ন নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাস্টন ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার ওই ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক শক্তিগুলো স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানো স্থগিত করেছে।
ইইউর উচ্চ প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাস্টনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, অতিসম্প্রতি জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রচেষ্টাসহ অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উচ্চ প্রতিনিধি সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক পছন্দ প্রকাশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সব রাজনৈতিক নেতাকে উৎসাহিত করেন। উচ্চ প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর প্রস্তুতি এখনকার জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করলে এতদসত্ত্বেও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নির্বাচনে বরাবরই সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে ইইউ। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের অধীনে একদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ইইউ তাদের পর্যবেক্ষক মিশন বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করেছিল। ইইউ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠায়। বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল ইইউ।
ইইউর কূটনীতিকরা বলেছেন, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া, ভোটার উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে কি না, তা দেখার জন্য পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নির্বাচনের পর পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণের পর নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তাদের মন্তব্য করার কথাই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকায় ইইউ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠক করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত রবি ও সোমবার টানা দু’দিন বৈঠক করে তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এ কারণে তারা মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। ইইউর রাষ্ট্রদূতরা আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করার সিদ্ধান্তে উপনীত হন। তাদের ওই সিদ্ধান্তসংবলিত প্রতিবেদন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ’র সদর দফতরে পাঠানো হয়। সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে ইইউ’র উচ্চ প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাস্টন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তুতি স্থগিত করেন।




