তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় ট্রাক উল্টে ও ময়নামতিতে কাভার্ডভ্যান বিকল হয়ে মাঝপথে আটকে ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ, ঘনকুয়াশা ও অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে দাউদকান্দি উপজেলা টোলপস্নাজার গোমতী সেতু সেতু পেরিয়ে গজারিয়া উপজেলার ভাটেররচর পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ যানজটের কারণে হাজার হাজার যাত্রী, ভিআইপি ও রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স এবং আমদানী-রপ্তানীবাহী যানাহনগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগ। এদিকে ভোর হলেই আবারও অবরোধের কারণে যাত্রী ও চালকরা তাদের গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারবে কিনা সেই আতঙ্কের মধ্যে আছে।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. হাছান জানান, টানা অবরোধের কারণে মহাসড়কের অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আবার চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে রাত ২টায় চান্দিনায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঝপথে উল্টে যায়। ওই গাড়িটি সরাতে না সরাতেই রাত ৩টায় ময়নাতির নিকট একটি কাভার্ডভ্যান উল্টে গিয়ে মাঝপথে আটকে যায়। ফলে মহাসড়কে এক ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ এক ঘন্টা চেষ্টা চেষ্টা চালিয়ে মহাসড়কের মাঝপথ থেকে সরিয়ে নিলে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল শুরু করে। এমনিতেই পথে পথে তীব্র যানজট সেই সাথে চালকরা এলোপতাড়িভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই হাইওয়ে পুলিশের যানজট নিরসনে কঠিন হয়ে পড়ে। রাত যতই বাড়ছে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আর ঘন কুয়াশার কারণে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচলের কারেণে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লা থেকে হোমনা পরিবহনের বাসের যাত্রী ও গৌরীপুরের যাত্রী শামীম আহমেদ বলেন, টানা অবরোধের পর বৃহস্পতিবার রাতে যানবাহন চলাচল শুরু হলে আবার অবরোধের কারণে কুমিল্লা থেকে রাত ১১টায় বাসে ওঠে সকাল ১০টায় এসে পৌছি। কুমিল্লা থেকে ৪৫ কিলোমিটার এক ঘন্টার রাস্তা পাড়ি দিতে ১১ ঘন্টা গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে।
ময়নাতি হাইওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, অবরোধের কারণে এমনিতেই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আবার কাভার্ডভ্যান উল্টে মাঝপথে আটকে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, টানা অবরোধেরর কারণে যাত্রী, আমদানী-রপ্তানী হাজার গাড়ি আটকে থাকায় সকল গাড়ি এক সাথে চলাচল করায় এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ছে। আগামি দিন শনিবার থেকে আবারও ১৮দলের ডাকা ৭২ঘন্টা আবরোধ থাকার কারণে দেশের ব্যস্ত্মতম মহাসড়ক আমদানী-রপ্তানী পণ্যবাহী যানবাহন যেমন অতিরিক্ত চাপ অন্যদিকে যাত্রীবাহী বাসেরও অতিরিক্ত চাপ ছিল। সেই সাথে ঘনকুয়াশার কারণে চালকদের বেপরোয় গতিতে গাড়ি চালানো ফলে মহাসড়কে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে যানজট নিরসেনে ময়নামতি,ইলিয়টগঞ্জ, দাউদকান্দি, গজারিয়া হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার বেলা ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল।




