রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাজাকার মুক্ত দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল ১১টায় রামগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
সভায় সাংবাদিক মনির হোসেন পাটওয়ারী সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রামগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার সালেহ আহম্মদ,রামগঞ্জ পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর মনোয়ার ইসলাম পাটওয়ারী,মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক মেম্বার,আনোয়ার উল্যা পাটওয়ারী, কমরেড আমির হোসেন, শিক্ষক নারায়ন মজুমদার,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুবল সরকার, সফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক পাটওয়ারী হোসেন শরীফ, আউয়াল হোসেন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন ১৯৭১ সালে তৎকালীন সুবেদার তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে রামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা ছিল তৎপর। ১৪ ডিসেম্বর রামগঞ্জ ও ১৬ ডিসেম্বর দেশ ব্যাপী হানাদার মুক্ত বিজয় দিবস ঘোষণা করা হলেও রামগঞ্জ থানা শহর ছিল হানাদার দোসরদের দখলে। ১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় পর্যুদস্ত পাক-হানাদার বাহিনী রামগঞ্জ থানা ত্যাগ করে, তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মহকুমা শহর হয়ে নোয়াখালী জেলা মাইজদী শহর অভিমুখে চলে যায়। এ দিন পাক-হানাদারের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলসামস বাহিনীদেরকে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের চারদিক ঘিরে জিম্মি করে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধারা থানা এলাকায় প্রতিটি ইউনিয়ন ওয়ার্ডে জয় বাংলা শ্লোগান তোলে স্বাধীন বাংলাদেশে লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫দিন ব্যাপী মুক্তিযোদ্ধারা শহরে জিম্মি হয়ে পড়া রাজাকারদের সাথে তুমুল যুদ্ধ করে। এ দিন এক এক করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে জিম্মি হওয়া রাজারকারা আত্মসর্মপন করার ফলে রামগঞ্জ শহর মুক্ত হয়। পরে আত্মসর্মপনকৃত বেশ কয়েজন কুখ্যাত রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধারা লামচর নামক কৈল্লার খামারে এনে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়।




