শেরপুরের লিতাবাড়ীতে গরুহাটা থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিজিবি কর্তৃক রাস্তা আটকে দিয়ে আকস্মিক গুলি করায় দুই গরু ব্যবসায়ী ও এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে। ১০ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের নিচপাড়া পাকা সড়কে ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত গরু ব্যবসায়ীরা জানান, মঙ্গলবার রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়নের মন্ডলিয়াপাড়া গ্রামের গরুর পাইকার মোশাররফ হোসেন (৪০) ও ফুলপুর গ্রামের গরুর পাইকার দুলাল মিয়া (৪৫) শহরের গরুহাটায় গরু বিক্রি করতে আসেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মূল্য না হওয়ায় তা ফেরত নিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে চিনামারা নদীর পাড় এলাকায় পৌছলে সেখানে হাতিপাগার বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার হায়দার আলী ও ল্যান্স নায়েক মামুন মিয়া গরু ভর্তি ভটভটি আটকাতে রাস্তায় আড়াআড়িভাবে মোটরসাইকেল রেখে পথ আটকে দেন। ওইসময় গরু ব্যবসায়ীরা ভটভটি থামালে সুবেদার হায়দার গুলি তাদের দিকে রাইফেল তাক করেন। ওইসময় অসাবধানতাবশত রাইফেল থেকে পরপর দুটি গুলি বের হয়ে সঙ্গে থাকা ল্যান্স নায়েক মামুন মিয়া ও গরু ব্যবসায়ী দুলাল এবং মোশাররফ আহত হন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে আহত মামুন মিয়াকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এদিকে গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে সুবেদার হায়দার আলীকে আটকে রেখে পুলিশ এবং সংবাদ মাধ্যমকে খবর দেন। পরে গণমাধ্যমকর্মী, থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল এবং রামচন্দ্রকুড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অন্যদিকে খবর পেয়ে বিজিবি ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দীনও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে প্রাথমিক তদন্ত শেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে বিচারে আশ্বস্ত করেন বিজিবি’র সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দীন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, সীমান্ত থেকে প্রায় চৌদ্দ কিলোমিটার দূরে সন্ধ্যার পর নির্জন রাস্তায় সিভিল পোষাকে গরু ব্যবসায়ীদের আটকে গুলির ঘটনা অসৎ উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। পুরো তদন্ত শেষে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেব।
বিজিবি’র সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দীন জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




