রূপগঞ্জ সংবাদদাতা : সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প যাদুঘরে মাস দেড়েক পরেই শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী কারু শিল্প মেলা। দীর্ঘ এক মাস ব্যাপী এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ইতিমধ্যেই ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন বাহারি ডিজাইনের নকশী কাঁথার অনুপম কারিগর হোসনে আরা। প্রতি বছরই ওই মেলায় “হোসনে আরার নকশী কাঁথা” নামে একটি স্টল বরাদ্দ থাকে তার জন্য। নকশী কাঁথা বুনন ও বিপননে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি সরকার কর্র্তৃক ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের মেডেল ও নগদ ৩০ হাজার টাকা পুরষ্কৃত হয়েছেন। আসন্ন মেলা উপলক্ষ্যে নতুন ডিজাইনের নকশী কাঁথা বুননে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

জনপ্রিয় নকশী কাঁথার সফল কারিগর হোসনে আরা জানান, শখের বশতঃ কৈশর কালেই তিনি নকশী কাঁথা বুনতে শুরু করেন। বাড়ীর মা-খালাদের কাছ থেকেই তার এ বুনন শিক্ষার হাতেখরি। সময় পেলেই সকলে গোল হয়ে পানের বাটা নিয়ে বসে যেতেন নকশী কাঁথা বুনন করতে। কাঁথার প্রত্যেকটি নকশায় পরিস্ফুটিত হতো কারিগরের হৃদয়ের অনুভূতি। কখনো আঁকা হতো নানা রকমের ফুল, বৃক্ষ ও তরুলতার ছবি। আবার কখনোবা ফুটিয়ে তোলা হতো গ্রাম বাংলার রুপ বৈচিত্রের অপূর্ব সমাহার। তখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশেও রপ্তানী করা হত। এক সময় যৌবনে পদাপর্ণ করেন তিনি। বিবাহ হয় সোনারগাঁওয়ের গোয়ালদী গ্রামের কাহ্হার উদ্দিনের সাথে। কিন্তু সুখের সংসারে হঠাৎ নেমে আসে হতাশার কালো মেঘ। মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যায় কাহ্হার উদ্দিন। ঘরে ছোট ছোট তিনটি ফুটফুটে মেয়ে নিয়ে অসহায় হয়ে পরেন তারা। এ সময় পুরো সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে হোসনে আরা শুরু করেন নকশী কাঁথা বুনন ও বিপনন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রায় ২৫ বছর যাবত এটাই তার নেশা ও পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে বড় দ্ইু মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। এখন ছোট মেয়ে নার্গিসকে সাথে নিয়ে নকশী কাঁথা বুনন ও বিপননের মধ্যদিয়েই সংসারের হাল ধরে রেখেছেন তিনি।
হোসনে আরা আরও জানান, স¤প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তার ব্যবসায় মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। কেননা গ্রাম্য মানুষের তুলোনায় শহুরে মানুষের কাছে রকমারি ফুল, বিস্তৃর্ণ মাঠ, ফল-ফলাদি, তরুলতা ও কৃষকের কর্মবস্ততার দৃশ্যপট সম্বলিত নকশী কাঁথার কদর অনেক বেশী। কিন্তু অবরোধ ও হরতালের কারণে শহুরে দর্শনার্থীরা সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প মেলায় আসতে পারছেনা। তাই নকশী কাঁথার বেচা-কিনাও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।




