শেরপুরে এবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কলেজছাত্রী (১৬)। ৩০ মার্চ বুধবার রাতে শহরের গৌরীপুর এলাকার এক বাসায় ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে ওই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে জোবায়ের হোসেন (২৮) নামে এক কলেজ শিক্ষক ও লুৎফর রহমান (৩৫) নামে এক বাসার মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার জোবায়ের হোসেন নকলা উপজেলার চৌধুরী ছবরুন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের আইসিটি প্রভাষক ও শ্রীবরদী উপজেলার শিমুলকুচি গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং লুৎফর রহমান শেরপুর পৌর শহরের গৌরীপুর এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। ওই ঘটনায় ধর্ষিতা কলেজছাত্রীর দায়ের করা মামলার অপর আসামি আবু রাহাত (৩৫) পলাতক রয়েছেন। তিনি শহরের সজবরখিলা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। ওই ঘটনায় শেরপুর শহরসহ নকলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে ধর্ষিতা কলেজছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। একইদিন বিকেলে গ্রেফতারকৃত কলেজশিক্ষক জোবায়ের হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল মামুন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একইসাথে বাসার মালিক লুৎফর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর আল মামুন আগামী রবিবার তার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করে উভয় আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বন্দে আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নকলা পৌর শহরের ইশিবপুর এলাকার বাসিন্দা ও চৌধুরী ছবরুন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী একই কলেজের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক জোবায়ের হোসেনের কাছে প্রাইভেট পড়তো। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। ওই অবস্থায় ৩০ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে ফোন করে শেরপুর শহরের মধ্য গৌরীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে জোবায়ের হোসেন। সেখানে প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসার মালিক লুৎফর রহমান ও তার বন্ধু আবু রাহাত তাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং ঘটনা দেখে ফেলাসহ তা ভিডিওতে ধারণের কথা বলে তাদেরকে চাপ দেয়। পরে শিক্ষক জোবায়েরকে পাশের একটি কক্ষে রেখে ওই ছাত্রীকে আবু রাহাত ও লুৎফর রহমান রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এরপর জোবায়ের ও কলেজ ছাত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেয় তারা। ফলে রাতেই জোবায়ের মোটরসাইকেলযোগে তারাকান্দি এলাকায় পৌঁছানোর পর এক সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে বাসায় পাঠায় ওই কলেজছাত্রীকে। পরে ওই কলেজছাত্রী রাতে বাসায় গিয়ে ঘটনা খুলে বলে এবং তার এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ৯৯৯ এ ফোন করলে রাতেই কলেজ শিক্ষক জোবায়েরকে তার নকলা শহরের বাজারদি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে নকলা থানা পুলিশ। পরে ঘটনাটি শেরপুর সদর থানা এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় কলেজছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে শেরপুর শহরের মধ্য গৌরীপুর এলাকা থেকে বাসার মালিক লুৎফর রহমানকে গ্রেফতার করে। সেইসাথে ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত বিছানার চাদর, লুঙ্গিসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেইসাথে জেলা সদর হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মামলার আরেক পলাতক আসামি আবু রাহাতকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




