আমি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। কারণ, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। আমি পরমতসহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী। কারণ, পৃথিবীতে বহু মতবাদ, বহু ভাষাভাষী, বহু জাতি, উপ-জাতি, বহু বর্ণ-গোত্র এবং বহু ধর্মের অনুসারী রয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ মত ও পথে চলে। তাদের সামাজিক আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও ধর্ম-বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ বা বাঁধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষই এই বিশ্বকে আধুনিক সভ্যতায় সজ্জিত করেছে। আবার এই মানুষই মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। এই মানুষই যুদ্ধ বিগ্রহের মাধ্যমে কত শহর নগর সভ্যতাকে ধ্বংস করেছে। কত নারী শিশু ও বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আজও মানুষ তার প্রিয় জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। উদ্বাস্তু হচ্ছে। অন্য কোন মানবিক রাষ্ট্রের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে। কী নিদারুণ কষ্টের জীবন এদের! নাই দেশ, নাই ঠিকানা! এদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কি? আগ্রাসী ও স্বৈর-শাসকদের পোড়ামাটি নীতি গ্রহণের কারণ কি? কোথায় মানবতা, কোথায় জাতিসংঘ?

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে। তাদের বসত বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে জীবন্ত শিশুদের নিক্ষেপ করেছে। রক্তপিপাসু হায়েনারা কত নিষ্ঠুর! কত নির্মম নৃশংস পিশাচ! হাজার হাজার নারীকে তাদের স্বামী ও সন্তানদের সামনে ধর্ষণ করেছে এবং ধর্ষিত নারীদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে টুকড়ো টুকড়ো করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। তারা ধন-সম্পদ, সোনাদানা, অর্থ-কড়ি সবকিছু লুন্ঠন করেছে।
মিয়ানমারের উগ্রবাদী বৌদ্ধ হায়েনা ও বর্বর সেনাবাহিনীর নৃশংসতার হাত থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ সরকার মানবিক আশ্রয় দিয়েছে। গৌতম বুদ্ধের কথাÑ ‘জীবহত্যা মহাপাপ। অহিংসাই পরমধর্ম’। মিয়ানমারের বর্বর রক্তপিশাচ ঘৃণ্য বৌদ্ধবাহিনী- এরাই নাকি গৌতম বুদ্ধের অনুসারী। ধীক! ধীক এদের চৌদ্দ গোষ্ঠীকে। চট্টগ্রামের রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে দুস্কৃতিকারীদের হামলা ও ভাংচুরে আমরা ব্যথিত হয়েছিলাম। প্রতিবাদ জানানো সহ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছিলাম। এটা আমাদের বাঙালি জাতিস্বত্ত্বার মানবিক মুল্যবোধ থেকে উৎসারিত। শুধু তা-ই নয়, সরকার বৌদ্ধ বিহারগুলো পূনঃনির্মাণ করে দিয়েছে। ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আবার ৪শ’ বছরের পূরনো বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার মহোৎসবের নিদারুণ দৃশ্যও বিশ্ববাসী নির্বিবাদে প্রত্যক্ষ করেছে।
আগ্রাসীরাষ্ট্র ইজরায়েলের ফ্যাসিস্ট সরকার তার হায়েনা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনে আগ্রাসন চালাচ্ছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে ১০ মে থেকে ২০ মে-২০২১ পর্যন্ত সর্বাত্মক আক্রমণ চালিয়েছে ইজরায়েল। শিশুদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করছে। ঘণ ঘণ বিমান হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। ১৭ মে’২১ রাতে ইজরায়েল মাত্র ২৫ মিনিটে ১২২টি ভারী বোমা বর্ষণ করেছে। ১০মে থেকে ২০মে পর্যন্ত ১১দিনের যুদ্ধে গাজায় ৫০/৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুৎ হয়েছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার ভবন ও বাসাবাড়ি। মৃত্যু হয়েছে ২২৭ জনের। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
ইজরায়েলের উদ্দেশ্য গোটা ফিলিস্তিনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। ইজরায়েলের আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের বিশাল ভূ-খন্ড এখন সংকুচিত হয়ে আসছে। হয়তো আর বেশিদিন বাকি নেই, যেদিন গোটা ফিলিস্তিন বিলীন হয়ে যবে। অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ইজরায়েলকে সামনে রেখে ফিলিস্তিনে ধ্বংসের খেলা খেলছে তার মিত্র দেশগুলো।

নবম শতাব্দিতে খ্রিস্টানরা স্পেনে মুসলিম সভ্যতার পতন ঘটিয়েছিল। সরলমনা মুসলমানদের নির্মূল করার জন্য ধূর্ত খ্রিস্টান সেনাপতি এই বলে মিথ্যা আহ্বান জানান, যারা মসজিদগুলোতে আশ্রয় নিবে তাদেরকে হত্যা করা হবেনা। অসহায় মুসলমানরা সেনাপতির মিথ্যা আশ্বাসে মসজিদগুলোতে গিয়ে আশ্রয় নিলে নিষ্ঠুর খ্রিস্টানরা স্পেনের অধিকাংশ মুসলমানকে বোকা বানিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করে। দিনটি ছিল পহেলা এপ্রিল। সেই থেকে সারাবিশ্বে ইহুদী, খ্রিস্টান ও অন্যান্য মুসলিম বিদ্বেষীরা প্রতিবছর এপ্রিল ফুল (অঢ়ৎরষ ভড়ড়ষ) পালন করে থাকে।
১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ‘জাতিসংঘ’ গঠন হয়েছে বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যাযাবর ইহুদীদের একত্র করার জন্য এবং ফিলিস্তিনের ভূ-খণ্ডে ইজরায়েলের মত একটি আগ্রাসী রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়ার জন্য; আর বিশ্বের ক্ষমতাধর বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর লেজুরবৃত্তি করার জন্য। এই ‘সংঘ’ আদিবাসী নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠীর ধর্মাবলম্বীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি। গোটা বিশ্বে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। জাতিসংঘের অর্জনটা কি? কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান বিরোধ জাতিসংঘ গত ৭৫ বছরেও নিস্পত্তি করতে পারেনি। ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধও জাতিসংঘ মিটাতে পারেনি। হার্জেগোভিনিয়ায় নির্বিচারে মুসলিম নিধনের করুণ দৃশ্য জাতিসংঘ চক্ষুমেলে নীরবে প্রত্যক্ষ করেছে। ভারতের গুজরাটে নারী ও শিশুসহ শত শত নিরপরাধ মুসলমানকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছেÑ এটা কি জাতিসংঘের জানার কথা নয়? চীনের উইগুর মুসলমানদের উপর যে নিধনযজ্ঞ চলছে জাতিসংঘ তা বন্ধ করতে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। একইভাবে কাশ্মির, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, চেচনিয়া, বসনিয়া থেকে বাংলাদেশ; সবখানেই মুসলমানদের উপর নির্যাতন চলছে। এই নির্যাতন কারা চালাচ্ছে, কেন চালাচ্ছে? ইয়াজুজ-মাজুজ আর দাজ্জাল তো এখনো আগমন করেনি।
পারমাণবিক অস্ত্রের মিথ্যা অজুহাত তুলে আমেরিকার নেতৃত্বে বহুজাতিক বাহিনীর ইরাক যুদ্ধের মূল লক্ষ্যই ছিল সাদ্দাম হোসেনকে খতম করা, লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফীকে হত্যা করা। এই কাজগুলো করতে দেশ দু’টির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং যুদ্ধ শেষে মার্কিনী স্বার্থ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এর প্রতিবাদে এক ইরাকী সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে জুতা মেরে ইরাকের সর্বোচ্চ ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তাকে ইরাকের বীর হিসেবে দেখা হয়। প্রেসিডেন্ট আসাদ পশ্চিমাদের মদদে সিরিয়ায় পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেছেন। এভাবেই মুসলিম দেশগুলোত্ েচলছে যত ধ্বংসযজ্ঞ। আর এর পিছনে সক্রিয় রয়েছে পশ্চিমাদের কালোহাত।
এতসব কিছুর পিছনে জাতিসংঘ নেই। জাতিসংঘ আছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ আর এডিবি নিয়ে, সুদের ব্যবসা নিয়ে। আর আছে বিশ্বের বিভিন্ন অনুন্নত দেশে কিভাবে পশ্চিমাদের মুল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণের সুযোগ করে দিবে। বিভিন্ন দেশের সৈন্য ভাড়া করে নিয়ে জাতিসংঘ ‘শান্তি মিশন’ গঠন করে। টাকা দেয় পশ্চিমা দুনিয়ার শাসকরা। জাতিগত বিরোধের কলহে লিপ্ত থাকা অশিক্ষিত ও হতদরিদ্র নিগ্রো জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত আফ্রিকার মুল্যবান খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ দেশগুলোতে জাতিসংঘ শান্তি মিশনের সদস্য পাঠিয়ে সাময়িক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে। এতে কোন দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আসেনা। বিশ্বের খরাপীড়িত দেশগুলোতে জাতিসংঘ নামসর্বস্ব সেবাদান দিয়ে থাকে। খরা ও দুর্ভিক্ষপীড়িত ইথিওপিয়ায় খাদ্যাভাবে অগণিত নারী ও শিশু মারা গেছে। বলাইবাহুল্য, জাতিসংঘ কোথাও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি।
ইহুদী প্রবাদে আছে- ‘একটা মিথ্যাকে বারবার সঠিক বলে প্রচার করলে সেটা সত্যে পরিণত হয়ে যায়’। গোটা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মুসলমানরা এখন ইহুদী-নাসারাদের টার্গেট। অনেক দেশে মুসলমানরা নিজভূমে পরবাসী। কোন কোন দেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও মুসলমানরা চরমভাবে নির্যাতিত নিস্পেষিত হচ্ছে। তারা এর প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারছেনা। অথচ অগ্রপশ্চাৎ না ভেবেই ইহুদী নাসারাদের ইন্ধনে মুসলমানদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যায়িত করতে করতে এই জাতির উজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে মলিন করে দেওয়া হচ্ছে। ‘জঙ্গি’ শব্দের অর্থ যোদ্ধা। জঙ্গী আর সন্ত্রাসী, দাঙ্গাবাজ, অজ্ঞাত বন্দুৃকধারী বা আততায়ী এক কথা নয়। অতীতে বাংলাদেশে গণবাহিনী ছিল, সর্বহারা পার্টি ছিল। তারা মানুষ মেরেছে; তাদের ‘জঙ্গী’ বলা হতোনা।
আমেরিকার ১৪৫তম স্বাধীনতা দিবসে বন্দুকধারীদের হামলায় দেড় শতাধিক মানুষ মারা গেছে। সারা আমেরিকায় সেদিন চার শতাধিক হামলা সংঘটিত হয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম দিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে ২৮ বছরের এক যুবক থাপ্পর মেরে মাটিতে প্রায় ফেলে দিয়েছিল। ৬ জুলাই হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসকে বন্দুকধারীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে। হত্যা মিশনে ২৬ কলম্বিয়ান ও ২ হাইতিয়ান মার্কিন নাগরিক অংশ গ্রহণ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রায় প্রতিদিন বন্দুকধারীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে মানুষ মারছে। তাদেরকে সন্ত্রাসী বলা হয়, অস্ত্রধারী বলা হয়, আততায়ী বা অজ্ঞাত বন্দুকধারী বলা হয়; ‘জঙ্গী’ বলা হয়না।
এদিকে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ইঙ্গ-মার্কিন চক্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে আতঙ্কের বিষবাস্প ছড়াচ্ছে। ইউক্রেনে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এশিয়ার এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব সুবিধা করতে পারবে বলে মনে হয়না। কারণ রাশিয়ার সাথে চীন যুক্ত হলে ইরান আফগানিস্তানও চলে আসবে। যুদ্ধ ডঙ্কা বাজুক বা না-ই বাজুক মানুষ নিধনের মহড়া আমাদের কাম্য নয়। উদ্বাস্তু মানুষের মিছিলও আমরা দেখতে চাইনা।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ৭ম শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত গোটা বিশ্বে ইসলামের জয়জয়কার ছিল। খলিফা ওমর (রাঃ) একাই অর্ধেক পৃথিবী শাসন করেছেন। তখন তো যুদ্ধ বিমান ছিলনা। রাডার ছিলনা। আধুনিক সমরাস্ত্র ছিলনা। এমন কি মনুষ্যবিহীন ড্রোনও ছিলনা। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহী নিয়ে বিনা রক্তপাতে বাঙলা বিজয় করেন। মুঘলরা চারশ’ বছর ভারতবর্ষ শাসন করেছেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ৯৯.৯৯ শতাংশ মুসলমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রায় ৯৩ হাজার শহীদের মধ্যে ৬৩ হাজারই মুসলমান ছিলেন। দিল্লীর ইন্ডিয়া গেটে শহীদদের নামের তালিকা রয়েছে।
পিতৃমাতৃহীন খুদিরাম এক মুসলিম নারীর আশ্রিত ছিলেন। বড়লাটকে মারতে গিয়ে তিনি সাধারণ ট্রেনাত্রীদের উপর বোমা হামলা চালিয়েছিলেন। বড়লাটকে মেরেছিলেন শেরআলী আফ্রিদী নামে এক মুসলিম বিপ্লবী। ব্রিটিশ পুলিশের এক গুপ্তচরকে হত্যার অভিযোগে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে তাকে পেশওয়ার থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২৫ বছরের যুবক শেরআলী আফ্রিদীকে আন্দামােেন পাঠানো হয়। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি বড়লাট আন্দামান পরিদর্শনে যান। সন্ধ্যার পর শেরআলী আফ্রিদী মোক্ষম সুযোগ পেয়ে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও সেনা বেষ্টিত বড়লাটকে ছুরি মেরে হত্যা করেন। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ দ্রুতবিচারে শেরআলী আফ্রিদীকে ফাঁসীতে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। ক্ষুদিরাম জাতীয় বীরের মর্যাদা পেলেও ইতিহাসের পাতায় স্থান হয়নি ভারতের স¦াধীনতার জন্য আত্মদানকারী এই অকুতোভয় বীর শহীদের। আমাদের পূর্বপুরুষরা তো ভারতীয় ছিলেন। সেদিনের ভারতবাসী আর আজকের ভারতবাসীর মধ্যে এত ফারাক কেন?
প্রিয় পাঠক, সারাবিশ্ব থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। কারণ, প্রাকৃতিক কারণে বর্ণবাদী বৈষম্য, ভৌগলিক কারণে যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্মীয় কারণে মানুষে মানুষে বিভাজন, অর্থনৈতিক কারণে শোষণ-বঞ্চনা, ক্ষমতার কারণে শাসন ত্রাসন নির্যাতন, রাজনৈতিক কারণে প্রতিহিংসার বিষবাস্প ছড়ানো আর সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠদের দ্বারা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা এখন সহনীয় পর্যায়ে এসে গেছে। অবশ্য সবকিছুরই শেষ আছে। আইনস্টাইন বলেছেন, ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিভাবে হবে জানিনা, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ যে লাঠিসোঠা দিয়ে সংঘটিত হবে সে কথা আমি বেশ জোর দিয়েই বলতে পারি’।
লেখক : কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শেরপুর।




