পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার অনেক জায়গায় এখনও লাল শাপলার বেশ কদর রয়েছে। বিক্রির জন্য লাল ও সবুজ-সাদা শাপলা নিয়ে এলে ক্রেতারা লাল শাপলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। মূহুর্তেই শেষ হয়ে যায় বিক্রেতার লাল শাপলা। এক সময় বর্ষা মৌসুম এলেই বিশেষ করে সাঁথিয়া ও ঈশ্বরদীর খাল-বিল, জলাশয়, ডোবা-নালায় ফুটে থাকতো নয়নাভিরাম লাল শাপলা ফুল। বর্ষা থেকে শুরু করে শরতের শেষ, এমনকি বসন্তের শেষ পর্যন্ত খাল-বিল, জলাশয়, ডোবা নালা ও নিচুঁ জমি এবং বড় বড় পুকুরে প্রাকৃতিক ভাবে লাল শাপলা জন্মাতো।
জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি জমিতে ট্রাক্টরসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি আর অধিক কীটনাষকের ব্যবহার এবং খাল-বিল ভরাটের ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে লাল শাপলা। প্রাকৃতিক ভাবে আগের মতো এখন আর লাল শাপলা জন্মাচ্ছে না। কয়েক বছর আগেও খাল-বিল, জলাশয়, ডোবা-নালা, নিচুঁ জমি ও পুকুরে লাল শাপলা দেখা যেতো। লাল শাপলার বাহারি রূপ দেখে সকলের চোখ জুড়িয়ে যেতো।
গ্রামীন জনপদে সাধারন মানুষের খাদ্য হিসেবেও লাল শাপলা পুষ্টির চাহিদা মেটাতো। এর ভেষজ গুনও কম নয়। হৃদরোগ, আমাশয়সহ প্রায় অর্ধডজন রোগের ওষুধ লাল শাপলা। সবজি হিসেবে শাপলার কদর এখনো বেশ জনপ্রিয়। সহজ লভ্য হওয়ায় গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই শাপলা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতো। তবে এখনো গ্রামের দরিদ্র মানুষের খাদ্য এ শাপলা যা বিশাল পুষ্টির চাহিদার যোগান দেয়।
বর্তমানে সাঁথিয়া ও ঈশ্বরদীর বেশ কিছু সৌখিন মানুষ তাদের বাড়ির আঙ্গিনায়, বাড়ির সামনে ও বাড়ির পাশের পুকুরে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লাল শাপলা চাষ করছেন। রাস্তার ধারের লাল শাপলা দেখে পথচারী ও গাড়ি চালকেরা থামিয়ে এক নজর দেখে নেন নয়নাভিরাম লাল শাপলা। অনেকে এই লাল শাপলা তুলে মালা বানিয়ে গলাতে পড়ে থাকেন।




