নবাবগঞ্জ(দিনাজপুর)সংবাদদাতাঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকায় বাল্য বিয়ের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। প্রশাসন যদি কোন স্থানে বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে দেশের প্রচলিত আইন ও বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে জানানো ও বুঝানোর পর চলে আসার পরও কনে পক্ষেরা তাদের মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে। এমন কি আইনের চোখকে ফাঁকি দিতে তারা বিয়ে রেজিস্ট্রীও করছেনা। স¤প্রতি উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের শেরনগর গ্রামের দিনমজুর আনারুলের মেয়ে ও লোকা হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী কল্পনা বেগমের বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করা হয়। এই সংবাদটি চলে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান হাবিবের নিকট। তিনি বিয়েটি বন্ধ করে দেয়ার জন্য একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপর দ্বায়িত্ব দেন। ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেখানে নিজে না গিয়ে তিনি দ্বায়িত্ব দেন ওই গ্রামের ও ওয়ার্ডের ইউ,পি সদস্য নিয়ামত আলীর উপর। নিয়ামত ওই গ্রামেরই হওয়ায় বিয়ে বন্ধ না করে মেয়ের পক্ষকে অন্যত্রে নিয়ে বিয়ে পড়ানোর পরামর্শ দেন। তখন মেয়ের নানার বাড়ী বিরামপুর উপজেলার কেটরা গ্রামে গিয়ে ওই বিয়ে সম্পুন্ন করা হয়। তবে সদস্য নিয়ামত আলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট বিয়ে বন্ধ করার কথা বলেছিল বলে জানান। ওই মেয়ের বাধা সত্বেও বিয়ে হয়েছে এমন খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মতিয়ার রহমান ও সাঃ সম্পাদক ছানাউল্যাহকে সাথে নিয়ে ওই মেয়ের বাড়ী যান এবং বাধা দেয়ার পরও বিয়েটা কিভাবে হলো তা ওই পরিবারের নিকট জানতে চান। কথা বলেন বাল্য বিয়ের শিকার কল্পনার সাথেও। সেখানে ইউ,পি চেয়ারম্যান হাসান আলী প্রধানও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাল্য বিয়েটি বাধা সত্বেও হলো কেন এর জন্য ওই ওয়ার্ডের সদস্য নিয়ামত ও ইউ,পি চেয়াম্যান হাসান আলীর নিকট ব্যাখ্যা চান। এসময় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গাফলতি, অশিক্ষা, দারিদ্রতা ও সামাজিক অসচেতনাকে বাল্য বিয়ের কারন হিসাবে দায়ি করেন। তার ভাষায় যে যার অবস্থানে রয়েছে সেখান থেকেই বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। এরপর তিনি সদস্য নিয়ামত আলীর ১টি টি,আর প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন এবং কাজের মান দেখে হতাশা প্রকাশ করেন।




