ads

বুধবার , ২০ নভেম্বর ২০১৩ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

গোপালপুরের মেধাবী ছাত্রী শরিফা হতাকাণ্ড : ১ বছরেও কূলকিনারা হয়নি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ২০, ২০১৩ ৮:০১ অপরাহ্ণ

sanjidaএ কিউ রাসেল, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)  : ঘাতক প্রেমিক শাহিনসহ ৪নরপশু কর্তৃক গণধর্ষনের পর হত্যা করে লাশ গুম করে রাখা টাঙ্গাইলের গোপালপুরের লোমহর্ষক ও আলোচিত কিশোরী শরিফা হত্যাকাণ্ডের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কোন কূলকিনারা হয়নি। ৪ আসামীর মধ্যে একজন গ্রেপ্তার হলেও মূল আসামীরা রয়েছে বহাল তবিয়তে। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে দিনের আলোয় তারা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং অপর দিকে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব, তা না হলে নিহতের বাবাসহ শরিফার পরিবারকে মেরে ফেলার  হুমকি দেয়া ও বেশ কয়েটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গোপালপুর পৌর শহরের সূতী পটলপাড়া অভিরুন্নেছা মহিলা আলিম মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ও ২০১২ সালের এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার্থী মোছা. সানজিদা খাতুন শরিফা (১২) । গত বছরের ১১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের খাস সূতী এলাকার নিজ বাড়ি হতে গোলাপি রঙের সেলোয়ার ও কালো রঙের পায়জামা পড়ে নিখোঁজ হন। এরপর হতেই প্রতিবেশি মো. ফজল মিয়ার পুত্র ও গোপালপুর কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী শরিফার প্রেমিক মো. শাহীনুল ইসলাম শাহীন (২০) এর নিকটসহ বিভিন্ন স্থানে শরিফার পরিবার মেয়ের খোঁজ করতে থাকেন। কিন্তু মেয়ের কোন খোঁজ না পেয়ে ঘটনার দুই দিন পর ১৩ নভেম্বর শরিফার রিকশা চালক হতদরিদ্র বাবা মো. শহিদুল ইসলাম গোপালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার  নং-৪৭২।
গোপালপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করার জন্য গোপালপুর থানার তৎকালীন এএসআই মুন্সি কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেন। অপর দিকে শরিফার পরিবার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য গ্রাম্য মাতাব্বরদের দারস্থ হন এবং ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গ্রাম্য শালিসে শাহিন-শরিফার মধ্যে প্রেমের বিষয়টি প্রথমে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করলেও বিভিন্ন প্রমাণ ও নিখোঁজ হওয়া শরিফার ডায়েরীতে লেখা প্রমাণে তাদের প্রেমের বিষয়টি প্রমানিত হয়। এতে শাহীনসহ তার বাবা ফজর আলী ও মা শাফি বেগম শরিফাকে উদ্ধারের জন্য দুই দিন সময় নেন। কিন্তু এতেও শরিফার কোন সন্ধান না দিয়ে রাতের অন্ধকারে বাড়ি হতে পালিয়ে যায় শাহিনসহ তার পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজের ১১দিন পর গত বছরের ২১নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে জনৈক মহিলা হসপিটাল সংলগ্ন হাজী আজহারুল ইসলামের বাসার পেছনের একটি নোংরা ডোবায় একটি গলিত লাশ দেখে ডাক চিৎকার দিলে আশ-পাশের লোকজন উপস্থিত হয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে দুপুর বারোটার দিকে  গোপালপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পড়নের পোশাক দেখে শরিফার বাবা শহর উদ্দিন তার মেয়ের লাশ বলে নিশ্চিত হলে তিনি বাদি হয়ে পর দিন বুধবার রাতে গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৬। আলোচিত ও লোমহর্ষক এ মামলাটির তদন্ত  দেয়া হয়ে ছিল গোপালপুর থানার তৎকালিন এসআই মো. আজিজুর রহমান।
তদন্ত  কর্মকর্তা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত রমিজুল নামের এক আসামীকে আটক করে প্রায় ৬ মাস আগে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ কালে ঘাতক প্রেমিক শাহিন, শাহিনের আপন চাচা ঢাকাস্থ সালাউদ্দিন ক্লিনিকের স্টাফ এবং বেলাল হোসেন, বেলালের আরেক ভাই মামুন ও আটক হওয়া শাহিনের বন্ধু রমিজুল পালাক্রর্মে শরিফাকে গণধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে পাশের একটি ডোবায় কচুরি পানার নিচে লাশ ডুকিয়ে রাখা হয় বলে সে পুলিশের কাছে অকপটে স্বীকার করে। তার পর প্রায় ৬মাস অতিক্রম হয়ে গেলেও বাকি ৩ আসামীদের একজনও আটক হয়নি বলে নিহতের পরিবারের দাবি।
শরিফার বাবা ও মামলার বাদি শহর উদ্দিন  জানান, আসামীরা মামলা তুলে নেয়াসহ নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সম্প্রতি তারা বেশ কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি তার মেয়ের হত্যাকারিদের গ্রেপ্তার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Need Ads
error: কপি হবে না!