শ্যামলবাংলা ডেস্ক : নারী জাগরণের অগ্রপথিক কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। সুফিয়া কামাল ছিলেন মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং অন্যায়, দুর্নীতি ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার-প্রতিবাদী লেখক ও নারীনেত্রী। বরেণ্য এই কবি ও সাহিত্যিক ১৯৯৯ সালের এই দিনে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা সৈয়দ আবদুল বারি পেশায় ছিলেন উকিল। সুফিয়া কামাল তেমন কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি। নিজ প্রচেষ্টায় এবং মায়ের স্নেহ ও পরিচর্যায় স্ব-শিক্ষিত ও সুশিক্ষিত হন। ১৯২৩ সালে লেখেন তার প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূয়া’। ১৯২৯ সালে যুক্ত হন বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলামে। ১৯৩১ সালে তিনি মুসলিম নারীদের মধ্যে প্রথম ইন্ডিয়ান মহিলা ফেডারেশনের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সালে সুফিয়া কামালের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে। সুফিয়া কামাল ছায়ানট, কচিকাঁচার মেলা ও মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ নানা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, কেয়ার কাঁটা, একাত্তরের ডায়েরি, মোর যাদুদের সমাধি পরে, একালে আমাদের কাল উল্লেখযোগ্য।
তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, উইমেন্স ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস ক্রেস্ট, বেগম রোকেয়া পদক, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্বর্ণপদক ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারসহ নানা পদকে ভূষিত হন।




