দান করলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও এক স্কুল শিক্ষার্থীও
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে এবার এগিয়ে এসেছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, গ্রেনেড হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা উম্মে কুলসুম রেনু (৫০) ও দীপিকা ঘোষ নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী। ২৪ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ রজণীগন্ধায় জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের হাতে তার সহায়তা তহবিলে আওয়ামী লীগ নেত্রী রেনু ২ লাখ টাকা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান তার একমাসের বেতনের সমপরিমান ৫৬ হাজার টাকা ও শিক্ষার্থী দীপিকা পহেলা বৈশাখের জামা কেনার জন্য জমানো ১৮শ ৭০ টাকা তুলে দেন। ওইসময় হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন, সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) এটিএম জিয়াউল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবিএম এহছানুল হক মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রেনু নকলা উপজেলার কেজাইকাটা গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান। আর দীপিকা শহরের ইউনাইটেড স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বটতলা কালির বাজারের বৈদ্যুতিক মিস্ত্রী উৎপল কুমার ঘোষের মেয়ে।

করোনা তহবিলে সহায়তা দানকালে আওয়ামী লীগ নেত্রী রেনু গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তিনি ২০০৪ সালে রাজধানী ঢাকায় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা চেস্টা চালানো হয়। কিন্তু তিনি আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রাণে বেচে যান। আমিও সেই গ্রেনেড হামলায় আহত হই এবং এরপর চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দু’দফায় অনুদান হিসেবে ২০ লক্ষ টাকার এফডিআর করে দেন। ওই টাকার লভ্যাংশ থেকে আমার সংসার চলছে। কিন্তু বর্তমানে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে জাতির এক ভয়াবহ ক্রান্তিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের সাহাযার্থেই ওই টাকা জেলা প্রশাসকের সহায়তা তহবিলে দান করলাম। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান ও স্কুল শিক্ষার্থী দীপিকাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে কর্মহীন অসহায় মানুষের সহায়তায় ওই টাকা দান করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব তার করোনা তহবিলে ওইসব দানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জাতির এ মহা দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের ওই দান অত্যন্ত মহৎ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত, যা দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে তুলবে। সেই সাথে তিনি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ অসহায় মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে ২১ এপ্রিল শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্দিগাও গ্রামের নজিম উদ্দিন (৮০) নামে এক ভিক্ষুক নিজের ভিক্ষে করে জমানো ১০ হাজার টাকা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার করোনা তহবিলে দান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

ত্রাণ সমন্বয় সভা : জেলা প্রশাসকের করোনা সহায়তা তহবিলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী রেনুর অনুদান গ্রহণের আগে জেলায় করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন, জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ জেলা পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।





