ads

শনিবার , ৩ আগস্ট ২০১৯ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুর জেলা কারাগারের হাজতি যুবকের মৃত্যু

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ৩, ২০১৯ ২:৫৭ অপরাহ্ণ

ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ায় বাড়ছে ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুর জেলা কারাগারে হোসেন আলী (৩৫) নামে এক হাজতি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ২ আগস্ট শুক্রবার রাতে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। সে সদর উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামের শমসের আলীর ছেলে। শনিবার দুপুরে হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হোসেন আলীর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। অন্যদিকে নতুন আইনে মাদকের মামলা বিচারে এখনও ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়ায় ওইসব মামলার স্তুপে বাড়ছে আসামিসহ সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি।
জেলা কারাগারের জেলার মোঃ ইসমাইল হোসেন হাজতি মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত হোসেন আলী মাদকের একটি মাদক মামলায় গত ১৫ জুন থেকে কারাগারে ছিলেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রক্তবমি শুরু হলে দ্রুত তাকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. খাইরুল কবীর সুমন বলেন, হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী রাত সোয়া ৯টার দিকে জেলা কারাগারের হাজতি আসামি হোসেন আলীকে রক্তবমির কারণে হাসপাতালে আনা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভর্তির জন্য ওয়ার্ডে নেয়ার সময়ই তিনি মারা যান। জেলা কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মোবারক হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের পর হাজতি হোসেন আলীর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তবমির কারণে রক্তশূন্যতায় তার মৃত্যু ঘটতে পারে। তার পেটে আলসারও হতে পারে।
এদিকে হোসেন আলীর আইনজীবী আলমগীর কিবরিয়া কামরুল জানান, এজাহারের কথিতমতে, মাত্র ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলার ৩ আসামির মধ্যে একজন ছিলেন হোসেন আলী। মামলার শুরুতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সে প্রথম দফায় গ্রেফতার হয়ে হাজত খাটার পর ৭ মার্চ জি,আর আমলী আদালত থেকে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল পর্যন্ত জামিনে মুক্তি পায়। এরপর ২৭ মে হোসেন আলী অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলেও পুলিশ রিপোর্ট দাখিল হওয়ায় তা নাকচ করে তার প্রতি গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ হয় এবং মামলাটি বিচার নিস্পত্তির জন্য সিজেএম আদালতে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ জুন হোসেন আলী দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতার হয়ে হাজতে যায়। কিন্তু তার পক্ষে জামিনের আবেদন দাখিলের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সেরেস্তা থেকে জানানো হয়েছিল, নতুন আইনে মাদকের মামলা বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত বদলী হয়ে আসা মামলাগুলোর তারিখ দেওয়া এবং জামিনের আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। যে কারণে লঘু অপরাধে দ্বিতীয় দফায় দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় হাজতে থাকার পরও তার পক্ষে জামিন শুনানী করা সম্ভব হয়নি। আর সেটি সম্ভব হলে হয়তোবা তার ওই করুণ পরিণতি হতো না। এছাড়া আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীসহ আদালতের সাথে সংশ্লিøষ্ট সূত্র জানায়, মাদকের ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০১৮ সালের নতুন আইনে হওয়া মাদকের প্রায় শতাধিক মামলা বদলী হয়ে জমতে থাকলেও সেগুলোর বিষয়ে না পাওয়া যাচ্ছে পরবর্তী তারিখ, না দেওয়া যাচ্ছে হাজতী আসামির জামিনের আবেদন। ওই সমস্যার বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী ও সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম ভাসানী বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ায় সমস্যা চলছে সারাদেশেই। তবে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সমস্যা উত্তরণে সমিতির তরফ থেকে কথা বলা হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে আমরা আশান্বিত। খুব দ্রুতই ওইসব মামলায় বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, সমস্যা উত্তরণের বিকল্প সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা এখনও কোন চিঠি পাননি।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ার কারণে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে বলে স্বীকার করলেও নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে কোর্ট ইন্সপেক্টর খন্দকার শহীদুল হক বলেন, মূলতঃ ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ার কারণেই কিছু সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। ওইসব মামলার কোনটায় আসামি হাজতে থাকলে আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প নির্ধারণ হতেই পারে। হাজতি হোসেন আলীর পক্ষে তার জানামতে নথিতে কোন জামিনের আবেদন নেই বলে দাবি তার।

Need Ads
error: কপি হবে না!