ads

রবিবার , ২১ এপ্রিল ২০১৯ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

হুইপ আতিকের বিরুদ্ধে শ্লোগান ॥ শেরপুরে আ’লীগের ৫৯ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা!

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
এপ্রিল ২১, ২০১৯ ৫:২৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করার পরও শেরপুরে মিটছে না আওয়ামী লীগের গৃহবিবাদ। আর ওই গৃহবিবাদের জের ধরে এবার কৃষক লীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার পূর্বে বর্ণাঢ্য মিছিল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, হুইপ আতিউর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ২০ এপ্রিল শনিবার রাতে নাশকতার মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে দলের বিবদমান অপর গ্রুপের ৫৯ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। সদর থানার এসআই সুরেশ রাজবংশীকে বাদী করে দায়ের করা ওই মামলায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানুর পরিবারের সদস্যসহ তাদের অনুসারী কৃষকলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৯ নেতা-কর্মীকে স্ব-নামে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে রবিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি কেউ। অন্যদিকে ঘটনা সম্পর্কে শহরবাসী কিছু না জানলেও নাশকতার মামলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই একটি অংশের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে আসামী করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রবিবার আদালতে পাঠানো মামলার বিবরণে প্রকাশ, শুক্রবার রাত ৮ টা ২০ মিনিটে শহরের খাদ্যগুদাম মোড়ে ৫০/৬০ জন লোক হাতে লাঠি-সোটা, ইট-পাটকেল নিয়ে কয়েকটি অটোরিকশা আটকে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে হুইপ আতিউর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে অশালীন উক্তি করে নানা অশালীন শ্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে তারা জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে যান-বাহনের গ্লাস ভাঙচুর করে নাশকতামূলক কর্মকা-সহ অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। আর ওইসব অভিযোগে পরদিন (শনিবার) ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারায় সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রেকর্ড হয়। আর তাতে প্রধান আসামী করা হয়েছে বর্তমানে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মেহেদী (৩৮) ও আব্দুল মতিন (৩৭) কে। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সম্রাট (৩০), সদর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি হেলাল মিয়া (আল হেলাল), শহর কৃষক লীগের সভাপতি রুকনুজ্জামান রঞ্জু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খোরশেদ আলম ইয়াকুব, যুবলীগ নেতা ওয়াসিম, আব্দুল খালেক, ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ, নয়ন তালুকদার, শাহিদুর রহমান শাহিনসহ ২৯ জনকে স্বনামে আসামী করা হয়েছে।
অন্যদিকে ওই মামলায় উল্লেখিত ঘটনাকে তথাকথিত, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক-১, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান বলেন, সেদিন খরমপুর খাদ্যগুদাম মোড়ে অনুষ্ঠান চলাকালে রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে যানবাহন ভাঙচুরের মাধমে নাশকতামূলক কোন কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এটি ওই সড়কে যাতায়াতকারী শতশত মানুষসহ শহরবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরাও অবগত। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য মিছিল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে হুইপ আতিকবিরোধী কোন শ্লোগান উঠে থাকতে পারে। তবে ওই ধরনের শ্লোগান তার সমাবেশ থেকেই কেবল নয়, তার মুখ থেকেও আমাদের বিরুদ্ধে অহরহ বিষোদগার করা হয়ে থাকে। একই কথা জানিয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু বলেন, মামলায় যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা সকলেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় নেতা-কর্মী। তার দাবি, সেদিন শান্তিপূর্ণভাবে কৃষকলীগের অনুষ্ঠান শেষ হলেও কেবল রাজনৈতিক ঈর্ষার কারণে হুইপ আতিক ক্ষমতার অপব্যবহারে সদর থানার ওসিকে প্রভাবিত করে ওই মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দিয়েছেন। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামছুন্নাহার কামাল, জেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইফতেখার কাফি জুবেরী ও জেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির ওই মামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ওই সাজানো মামলা থেকে দলের নেতা-কর্মীদের অব্যাহতি না দিলে হুইপ আতিকসহ জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে জানান, শারীরিক অসুস্থ্যতায় ঢাকায় অবস্থান করছি। তবে ঘটনা ও মামলার বিষয়ে শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্তকার্য যেন প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে। আর এক্ষেত্রে কেউ জড়িত না থাকলে হয়রানীর শিকার হবেন না।
উল্লেখ্য, গত জেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে শেরপুর সদরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হুইপ আতিক ও আতিকবিরোধী দু’টি বলয় বিরাজ করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আতিকবিরোধী বলয়ও নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করলেও এখনও মিটেনি সেই গৃহবিবাদ।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!