মো.সুজন রানা, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : বগুড়ার নন্দীগ্রামে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। সেইসাথে পুরোদমে শুরু হয়েছে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আগাম আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। কদিন পরেই শুরু হবে ঐতিহ্যের নবান্ন উৎসব। এজন্যও অপেক্ষার প্রহর গুণছে এলাকার কৃষক।
নন্দীগ্রাম উপজেলায় বছরে ৩ বার ধানের চাষাবাদ হয়। এবার বর্ষাকালীন আউশ মৌসুমে ধানের চাষাবাদ একেবারেই কম হয়েছে। তাই কৃষকরা রোপা আমন মৌসুমে ২০ হাজার ৮শ ৮৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছে। এবার আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ হাজার ৬শ ৬৬ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি অফিসার মশিদুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ নিয়ে কাজ করেছি। তাই এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে নতুন আমন ধান বিক্রয় শুরু হয়েছে। মিনিকেট ৮শ থেকে ৮শ ৫০ টাকা দরে ও বিনা-৭ ৭শ থেকে ৭শ ৫০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। বঙ্গাব্দের অগ্রাহয়ন মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় বাঙ্গালী কৃষক পরিবারের ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব। কালের বিবর্তনে অনেক কিছুর বিলপ্তি হলেও নবান্ন উৎসব পালনের কথা বাংলার কৃষকরা আজও ভুলে যায়নি। আমন ধান কাটার পরেই শুরু হয় নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের নতুন চালের পিঠে, পোলাও, পায়েস, ক্ষীর তৈরি করা হয় কৃষকদের ঘরে ঘরে। ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব উপলক্ষে গ্রাম-গঞ্জের কৃষক পরিবার জামাই-ঝি ও আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করে নতুন চালের বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরি করে ভুরিভোজের আয়োজন করে। প্রতিটি গ্রামে বাড়ি বাড়ি নতুন চালের রান্নার মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। নতুন চালের পিঠে, পোলাও, পায়েস, ক্ষির খেতেও বেশ মজা লাগে। তাই কৃষক পরিবারের জামাই-ঝি ও আত্মীয় স্বজনরা নবান্ন উৎসবের দাওয়াত পাবার জন্য অধির আগ্রহে দিন গুনতে থাকে। গ্রাম গঞ্জে নবান্ন উপলক্ষে গরু, মহিষ, ছাগল জবাই করে ও হাট বাজার থেকে বড় বড় মাছ কিনে এনে বাড়িতে ভুরিভোজের আয়েজন করা হয়। প্রাচীণ কাল থেকে কৃষকরা নবান্ন উৎসব করে আসছে। বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম, কাহালু, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, শাজাহানপুর, শেরপুর উপজেলায় সব চেয়ে বেশি নবান্ন উৎসব পালিত হয়।




