ads

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

সোহাগপুরের সেই বিধবাদের সংবর্ধনা দিল পুলিশ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর সংবর্ধিত হলেন মুক্তিযুদ্ধে স্বামী-সন্তান-স্বজনহারা সোহাগপুরের বিধবারা। ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলা মুক্তমঞ্চে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সংবর্ধিত করা হয়। ওই সময় শহীদ পরিবারের বিধবাদের হাতে ক্রেস্ট, শাড়ি ও নগদ ১০ হাজার টাকা করে তুলে দেন অতিথিরা। ‘শহীদ জায়া সংবর্ধনা’ নামের ওই অনুষ্ঠান আলোকিত করে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সরকারের মন্ত্রিসভার ২ প্রভাবশালী সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি এবং কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। বর্তমানে বেঁচে থাকা ২৫ জন বিধবাকে এদিন সংবর্ধিত করা হয়।
জেলা পুলিশের সংবর্ধনায় আপ্লুত শহীদ বাবর আলীর স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনা জোবেদা খাতুন (৭৪) বলেন, আইজ আমগরে অন্তরে খুব শান্তি নাগতাছে। সরকারের লোকজন আমগরে যেই সম্মান দিছে, আমগরে জীবনের দুঃখের ভার নাইম্মা গেছে। তার মতো প্রায় একই রকম অনুভুতি জানান, শহীদ কাইঞ্চা মিয়ার স্ত্রী আছিরন নেছা (৭৯), শহীদ আবদুল লতিফের স্ত্রী হাসেনা বানু (৬১), বীরাঙ্গনা আকিরন নেছা (৬৯)।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ১০০ নম্বর সংযোজন করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করে দেব। এ বছর ২ হাজার ২শ কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা আশা করছি, উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দ এ মাসের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। মুক্তিযোদ্ধারা চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ওষুধপত্র, পরীক্ষা-নীরিক্ষা এমনকি সিটভাড়াসহ চিকিৎসা বিনা পয়সায় পাবেন। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট হবে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে। অনেকেই এখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে সুযোগ-সুবিধা হাতানোর চেষ্টা করছে। বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশ্নের আলোকে মন্ত্রী বলেন, উপজেলায় যাচাই-বাছাইয়ে যারা বাতিল হয়েছেন, তারা কোনো অবস্থায়ই মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবেন না।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, যদি কেউ কিছু করে থাকে, সেটা আওয়ামী লীগের সরকার, বঙ্গবন্ধুর সরকার, শেখ হাসিনার সরকার করেছে। তিনি বলেন, স্মৃতি যখন ধূসর হয়ে যায় তখন কথাও হারিয়ে যায়। শেখ হাসিনা স্মৃতি জাগরুক করেছেন। আমি তার নগণ্য কর্মী হিসেবে যখনই সুযোগ পেয়েছি, স্মৃতিকে জাগরুক রাখার চেষ্টা করেছি। সোহাগপুরের বিধবাদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছি।
পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হোসেন মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক। ওইসময় নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোখলেসুর রহমান রিপন, পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক বাক্কার, নকলা উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট মাহবুবুল আলম সোহাগ, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, স্পেশাল পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামছুন্নাহার কামাল, জেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, জেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এডভোকেট ফারহানা পারভীন মুন্নীসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সোহাগপুর বেনুপাড়া গ্রামে পাকিস্তানি হায়েনার দল নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে নির্মমভাবে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। সকল পুরুষ মানুষকে হত্যা করায় এ গ্রামের নাম হয় ‘বিধবাপল্লী’। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এ গণহত্যায় নেতৃত্বদানকারী আলবদর কমান্ডার জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। রায় কার্যকরের পর ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১ সোহাগপুর বিধবাপল্লীকে ‘সোহাগপুর বীরকন্যা পল্লী’ নামে ঘোষণা করেন।

Need Ads
error: কপি হবে না!