রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে পাইলট অপারেটেড রিলিফ ভালভ জটিলতার কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইউনিট-২-এর ভালভ ইউনিট-১-এ প্রতিস্থাপন কিংবা বিদ্যমান ভালভ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমস্যা খতিয়ে দেখতে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দলও আসছে। ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এর আগে গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুর থেকে আগস্টে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি না লুকিয়ে বলতে চাই, এই ভালভ কেন কাজ করছে না, তা খতিয়ে দেখতে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে। যেখানে সমস্যা আছে, সেখানেই সমাধান হবে। প্রয়োজন হলে ইউনিট-২-এর ভালভ ইউনিট-১-এ রিপ্লেস (প্রতিস্থাপন) করব। অথবা তাদের সম্ভাব্য কম সময়ে সেটি ঠিক করতে বলব।’

মন্ত্রী জানান, গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হয়। তখন পরিকল্পনা ছিল, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে। কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এরই মধ্যে ‘বি’ স্টেজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দুটি সেফটি ভালভে সমস্যা থাকায় পরবর্তী ‘সি’ স্টেজে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি সাবমেরিন কেব্ল কনসোর্টিয়াম লাইসেন্সের তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রকার পূর্বানুমোদন ছাড়া আলাদাভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথভাবে কনসোর্টিয়াম গঠন করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি যে, এই ইনডিভিজুয়াল (স্বতন্ত্র) কোম্পানিগুলোকে ইনডিভিজুয়াল লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তারা নিজেদের যে কনসোর্টিয়ামটা করেছে, উইদাউট দ্য পারমিশন অব দ্য মিনিস্ট্রি (মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া)… মানে, আপনাকে কি ইনডিভিজুয়াল পারমিশন দেওয়া হয়েছে? কিন্তু সেখানে আপনারা তিনজনে মিলে একটা কোম্পানি করে সাবমেরিন কেব্ল বা লাইনটা নিয়ে আসলেন—এটা তো নিয়মনীতিবহির্ভূত।’
এ সময় মোবাইল ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত ডেটা গ্রাহকদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোনো ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত ডেটা আরও এক থেকে দুই দিন ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা উপস্থিত ছিলেন।




