ads

বুধবার , ৫ আগস্ট ২০২৬ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি আজ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ৫, ২০২৬ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আজ ৫ আগস্ট। জুলাই বিপ্লবীদের ভাষায় ‘৩৬ জুলাই’। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগে অর্জিত সেই দিনটির দুই বছর পূর্তিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে স্মরণ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং নানা আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

Shamol Bangla Ads

২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। তবে ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজাকার’ প্রসঙ্গের বক্তব্য এবং আন্দোলনকারীদের দাবি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়ার অবস্থান আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন। ‘তুমি কে, আমি কে—রাজাকার, রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে—স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এরপর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ১৭ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়।

Shamol Bangla Ads

১৯ জুলাই সরকার কারফিউ জারি করে। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সংহতি জানান। একই সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক সমন্বয়ককে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও প্রকাশ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবির পরিবর্তে এক দফা ঘোষণা করেন। সেই একমাত্র দাবি ছিল সরকারের পদত্যাগ। পরদিন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানির খবর আসে। এরপর ৫ আগস্ট রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় লাখো মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।

৫ আগস্ট দুপুরের দিকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানায়, সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে গেছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে।

বিকেলে সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের অবসান ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার)সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আন্দোলনের ছবি, ভিডিও ও তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারনেট সীমিত বা বন্ধ রাখার চেষ্টা সত্ত্বেও আন্দোলনের বার্তা দেশ-বিদেশে পৌঁছে যায়।

এছাড়া ছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আন্দোলনটিকে একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ দেয়। জুলাই-আগস্টের সেই আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, প্রাণহানি, বিচারপ্রক্রিয়া, শহীদদের স্মরণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে এখনও দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

দুই বছর পূর্তিতে শহীদদের স্মরণ করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশ আবারও ফিরে দেখছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সেই রক্তাক্ত দিনগুলো, যেগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।

২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। রাষ্ট্রীয় ছুটি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন, শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনাসহ দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি বলেন, “এ বিজয় বীর ছাত্র-জনতার। এত ত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।” প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের। একই ধরনের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ দেশের প্রতিটি জেলাতেও আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যমে দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান সড়ক জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দিয়ে সাজানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও শিশুদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। এদিকে সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার সেন্টার এবং ভবঘুরে পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!