শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। কোথাও বড় বড় খানাখন্দ, কোথাও আবার পিচ উঠে গিয়ে সড়ক হেঁটে চলাচলেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়ক এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কালাপাগলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে পাথর, খোয়া ও বালি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে কয়েক দিন ধরে পানি জমে থাকে। এতে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, নালিতাবাড়ী পৌরশহরে প্রবেশের আগে উচা ব্রিজ, শেহড়াতলী ও ভালুকাকুড়া এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহন নষ্ট হয়ে যায়। মেরামতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় আয়ও কমে গেছে।
শিক্ষার্থী আরাফ রহমান বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত, তা বোঝা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় শিক্ষক সামাউন ইসলাম বলেন, এটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের কয়েকটি বড় গর্তে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছিল। তবে সেগুলোও এখন সরে গেছে। এরপর আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি সংস্কার করা না হলে এটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে এলজিইডির নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শরাফ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নালিতাবাড়ী বাজার থেকে নির্মাণাধীন সেতু পর্যন্ত অংশের জন্যও পৃথক একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।




