গত জুন মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৩৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৫ জুলাই রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে,জুনে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৭২টি। এতে ৪২৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৬১ জন। নিহতের মধ্যে ৪৪ জন নারী, শিশুর সংখ্যা ৫৬ জন।

৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে মাসওয়ারি দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীর সড়কে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। এছাড়া মোট দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন; অর্থাৎ ১৩ শতাংশ। এই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন। আর ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি (৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে ১৯৪টি (৪১.১০ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি (১৩.৫৫ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি (১২.০৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৬টি (১.২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে হয়েছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
বিভাগওয়ারী দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, রাজশাহী বিভাগে ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার প্রধান কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।




