টানটান উত্তেজনাপূর্ণ প্রথম সেমিফাইনালটি ১-১ গোল ব্যবধানে শেষ হওয়ার পথেই ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে চলছিল যোগ করা ৬ মিনিটের খেলা। তখনই শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় বাংলাদেশ। তাতেই নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার কীর্তি গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আগের দুইবার বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই উঠেনি, দুবারই জিতেছে শিরোপা। আর মজার ব্যাপার হলো, এই নেপালকে হারিয়েই দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগেও একবার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু প্রথমবার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না তাদের। হেরেছিল ভারতের বিপক্ষে।
এবারের টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেরা চারে জায়গা করে নেয় নেপাল। তারা ভুটানকে ১-০ ও শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারায়।

অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোল ব্যবধানে জেতেন মারিয়া মান্দা। পরের ম্যাচেই ঘটে ছন্দপতন। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোল ব্যবধানে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফলে গ্রুপ রানারআপ হয়েই সেমিফাইনালের টিকিট কাটে বাংলাদেশ।
ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই ছন্নছাড়া ছিল চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন নেপালের ফুটবলাররা। সেই সুবাদে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীপা শাহির নেওয়া কর্নার কিক থেকে আসে বল গোলে পরিণত করেন গীতা রানি।
পরের মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যোগ্য ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল আদায় করা হয়নি। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আরও একটি গোল হজম করতে যাচ্ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শট লাগে গোল পোস্টে। তবে ক্রেডিট কিছুটা গোলকিপার মিলি আক্তারেরও। তার হাত লেগেই পোস্টে বল লাগে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত কর্নার থেকে সরাসরি শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই চোখ ধাঁধানো গোলে ১-১ ব্যবধানে সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।
এদিকে ম্যাচেচর ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় হিমালয়ের দেশটি। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।
১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা। যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় তিন মিনিট শেষ হওয়ার পথেই ছিল। আর এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠান সামসুন্নাহার-সাগরিকারা। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।




